আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপে আফগানিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল নিউজিল্যান্ড। গতকাল আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৮ উইকেটে ১২৪ রান তোলে আফগানরা। কোয়ার্টার ফাইনালে রূপ নেয়া এ ম্যাচে ৮ উইকেট ও ১১ বল হাতে রেখে লক্ষ্যটা টপকে যায় কিউইরা। কেন উইলিয়ামসনদের এ জয়ে ভারতের সেমিফাইনালে খেলার সব আশাও শেষ হয়ে গেল। ফলে আজ নামিবিয়াকে হারালেও শেষ চারে ওঠা হবে না বিরাট কোহলিদের।
এদিকে শারজায় গতকাল রাতের ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৭২ রানে হারিয়ে পূর্ণ ১০ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ-২ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাকিস্তান। ১০ নভেম্বর বুধবার আবুধাবিতে প্রথম সেমিফাইনালে গ্রুপ-১ চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে গ্রুপ-২ রানার্সআপ নিউজিল্যান্ড। পরদিন দুবাইয়ে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে গ্রুপ-১ রানার্সআপ অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে পাকিস্তান। ১৪ নভেম্বর দুবাইয়ে সপ্তম টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনাল। সেমিফাইনাল ও ফাইনাল তিনটি ম্যাচই বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় শুরু হবে।
পাকিস্তানের কাছে হেরে বিশ্বকাপ শুরু করা কিউইরা এরপর টানা হারিয়েছে ভারত, নামিবিয়া, স্কটল্যান্ড ও আফগানিস্তানকে। আরেকটি ম্যাচ জিতলেই ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর কিউইরা উঠবে আরেকটি বৈশ্বিক আসরের ফাইনালে।
১২৫ রানের টার্গেটে নেমে দলীয় ২৬ রানে ড্যারিল মিচেল ও ৫৭ রানে মার্টিন গাপটিলকে হারায় নিউজিল্যান্ড। এরপর আর কোনো বিপদ হয়নি। ব্যাটিংয়ে আস্থার প্রতীক কেন উইলিয়ামসন (৪২ বলে ৪০*) ও ডেভন কনওয়ে (৩২ বলে ৩৬*) তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৫৬ বলে ৬৮ রানে অবিচ্ছিন্ন থেকে দলের জয় নিশ্চিত করে তবেই মাঠ ছাড়েন।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ১৯ রানেই টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারায় আফগানিস্তান। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই দারুণ এক বাউন্সে মোহাম্মদ শাহজাদকে (২) বোকা বানান অ্যাডাম মিলনে। হজরতউল্লাহ জাজাই (৪), রহমানুল্লাহ গুরবাজ (৬) ও গুলবাদিন নায়েব (১৫) দলকে হতাশ করেন এদিন।
৫৬ রানে প্রথম টপ অর্ডারের চার ব্যাটারকে হারিয়ে চাপে পড়ে আফগানিস্তান। এরপর নজিবউল্লাহ জাদরান ও মোহাম্মদ নবীর ৫৯ রানের জুটিতে স্বস্তি ফেরে। ৩৩ বলে ফিফটি তুলে নেন নজিবউল্লাহ। সাউদির শিকার হয়ে দলীয় ১১৫ রানে সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক নবী (২০ বলে ১৪ রান)। দুই বল পরেই অনবদ্য ব্যাটিং করা নজিবউল্লাহকে ফেরান বোল্ট। এ বামহাতি ব্যাটার ৪৮ বলে ৭৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে আফগানিস্তানের সংগ্রহটা ভদ্রস্থ করেন। বোল্ট ১৭ রানে ৩টি ও সাউদি ২৪ রানে ২টি উইকেট নেন। কিন্তু এ রান দিয়ে শক্তিশালী কিউইদের আটকাতে পারেননি আফগান বোলাররা।
এ ম্যাচের ওপর ঝুলে ছিল নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান ও ভারতের সেমিফাইনাল ভাগ্য। নিউজিল্যান্ডের সমীকরণটা পুরোপুরি মিলে গেল। কিউইরা উঠে গেল শেষ চারে, আর বাড়ি ফেরা নিশ্চিত হলো আফগানিস্তান ও ভারতের।
কাঙ্ক্ষিত জয় তুলে নেয়ার পর কিউই দলনায়ক উইলিয়ামসন বলেন, শক্তিশালী পারফরম্যান্স। এ আফগানিস্তান কতটা বিপজ্জনক দল তা আমরা জানি। বোলিংয়ে দ্রুত উইকেট তুলে নেয়া এবং তাদের অল্প রানে আটকে দিতে দেয়াটা আমাদের জন্য দারুণ ছিল। ১৫০-১৫৫ রান চেজ করা কঠিন হতো। আর তিনটি ভিন্ন ভেনুতে মানিয়ে নেয়ার কাজটিও আমাদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল।
সেমিফাইনালের প্রতিপক্ষ নিয়ে উইলিয়ামসন বলেন, আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষমাণ। ইংল্যান্ড খুবই শক্তিশালী দল। আমাদের জন্য শিখে যাওয়া আর নিজেদের পারফরম্যান্সে উন্নতি করাই লক্ষ। টুর্নামেন্টটি অবিশ্বাস্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। সামনের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছি আমরা।
কিউইদের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়া আফগানিস্তানের অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী বলেন, টস জিতে আগে ব্যাটিং নিয়ে বোর্ডে ভালো একটা সংগ্রহ দাঁড় করানো আমাদের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শুরুটা ভালো হয়নি। এরপর নজিবউল্লাহ আমাদের সঠিক রাস্তায় ফেরালেও আমরা ভালো ফিনিশিং করতে পারিনি। এ পিচে ১৫০-১৬০ রান ভালো সংগ্রহ হতে পারত। এমন পিচে এটা (১২৪) মোটেও ভালো সংগ্রহ নয়। এর পরও বল হাতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।
১৭ রানে তিন উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরা হওয়া কিউই গতিদানব ট্রেন্ট বোল্ট পুরস্কার হাতে নিয়ে বলেন, এ বিকালে ভালো পারফর্ম করতে পারাটা আনন্দের ছিল। ছেলেরা ভালো চেতনার মধ্যে আছে। সামনে বড় ম্যাচ। এখানে ভিন্ন পিচে ভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকছে। ইংল্যান্ড সম্পর্কে বলব, তারা খুব ভালো ক্রিকেট খেলছে। এ ম্যাচটি আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে।
শারজায় টস জিতে ব্যাটিং নেয়া পাকিস্তান বাবর আজম (৪৭ বলে ৬৬) ও শোয়েব মালিকের (১৮ বলে ৫৪*) হাফ সেঞ্চুরি এবং মোহাম্মদ হাফিজের (১৯ বলে ৩১*) ছোট্ট এক টর্নেডোয় ৪ উইকেটে ১৮৯ রানের সৌধ গড়ে; যার ওপর দাঁড়িয়ে বোলাররা ৭২ রানের বড় জয় এনে দেন দলকে। রিচি বেরিংটন সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন ৩৭ বলের মোকাবেলায়। পাকিস্তানের শাদাব খান ১৪ রানে দুটি উইকেট নেন। ম্যাচসেরা হন শোয়েব মালিক।










