বিএনপির গণসমাবেশ ঘিরে বরিশাল বিভাগজুড়ে বাড়ছে উত্তেজনা। বিএনপির জোর প্রচারণা, অন্যদিকে আওয়ামী লীগ-যুবলীগের পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল রাজনীতির মাঠে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনাও ঘটেছে। বিএনপির গণসমাবেশের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই নগরীসহ গোটা বরিশালের রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, আগামী ৫ নভেম্বরের বিভাগীয় সমাবেশে যেন নেতাকর্মী ও সমর্থকরা আসতে না পারেন সেজন্য এরই মধ্যে ৪ ও ৫ নভেম্বর সড়কপথে সব ধরনের যানবাহন ধর্মঘট ঘোষণা করা হয়েছে। নৌ-রুটেও ধর্মঘট ডাকার আভাস পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে দিতে সোমবার রাতে জেলার কয়েকটি স্থানে বিএনপি নেতাদের বাসা-বাড়িতে পুলিশ হানা দিয়েছে। একাধিক স্থানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের গুরুতর জখম করেছেন।
এদিকে সোমবার রাতে আকস্মিকভাবে বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে একযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, নগরীর গড়িয়ারপাড় এলাকায় হঠাৎ করে কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন লিটন মোল্লার নেতৃত্বে মোটরসাইকেল মিছিল বের করা হয়। ওই মিছিল থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এতে ৩০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক মীর সাদসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। এর আগে ওই দিন (সোমবার) জেলার উজিরপুরে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের হামলায় বিএনপির ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। লিফলেট বিতরণকালে বানারীপাড়া বন্দর বাজারে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের হামলায় জেলা বিএনপির সদস্যসহ কমপক্ষে ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়া বাকেরগঞ্জের কলসকাঠি ইউনিয়নে বিএনপির জনসংযোগ ও পথসভায় পুলিশের হামলায় বিএনপির ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান। এছাড়া রোববার সন্ধ্যায় গৌরনদীর মাহিলাড়া বাজারে এক স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীকে পিটিয়ে আহত করা হয়।
বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১১ নভেম্বর ঢাকায় যুবলীগের মহাসমাবেশ এবং ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে এ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এখন থেকে আগামী ৯ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যায় নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে মিছিল ও সমাবেশ করার জন্য মহানগর আওয়ামী লীগ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী ৫ নভেম্বর বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের আগে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের চাপে রাখতে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঠে নামানো হয়েছে। যে কারণে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা বরিশাল।
মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল ইসলাম লিটু নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে একযোগে মিছিল ও সমাবেশ করার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে মিছিল ও সমাবেশ করা হয়েছে। আমরাও যে মাঠে আছি, তা মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে জানান দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, বিএনপি তাদের সমাবেশ করবে, আমরা তাতে বাধা দেব না। তবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলে আমরা তাদের প্রতিরোধ করব।
এদিকে যানবাহন ধর্মঘটকে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের গভীর ষড়যন্ত্র আখ্যায়িত করে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক বলেন, হঠাৎ করে মিছিল, সমাবেশ ও হামলার ঘটনা বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ বাধাগ্রস্ত করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি চক্রান্ত। আওয়ামী লীগ কোনোভাবে আমাদের আটকাতে না পেরে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।









