সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় দেশে সুশৃঙ্খলভাবে ‘মব’ কার্যক্রম চলছে। দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত হয়ে পড়েছে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতা অপর্যাপ্ত এবং গণমাধ্যমে নারীদের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে গণমাধ্যম সংস্কার: স্বাধীনতা, দায়িত্ব ও ক্ষমতার সমন্বয়’ শীর্ষক সংলাপে অংশ নিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন। সংলাপটি সঞ্চালনা করেন সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান।
এ সময় জিল্লুর রহমান বলেন, প্রধান উপদেষ্টার ‘তিন শূন্য’ ধারণার বিপরীতে বাস্তবে চারপাশে শূন্যতা দৃশ্যমান। তিনি সম্প্রতি প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ এবং এক প্রবীণ সম্পাদককে হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনাকে ‘মব’ হিসেবে স্বীকার না করার সরকারি অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সংলাপে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবির বলেন, সাধারণভাবে ‘মব’ বলতে বিশৃঙ্খল জনতাকে বোঝানো হলেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ছিল সংগঠিত ও পরিকল্পিত। এ ধরনের সুশৃঙ্খল হামলার পেছনে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে। তিনি বলেন, শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সংকটের কারণেই সাংবাদিকরা দুর্নীতিগ্রস্ত হন—এমন ধারণা সঠিক নয়। অনেক সচ্ছল সাংবাদিক ও সম্পাদকও দুর্নীতিতে জড়িত। প্রকৃত সাংবাদিক তারাই, যারা ক্ষমতাকে প্রশ্ন করেন।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান কামাল আহমেদ বলেন, বর্তমান সরকার মেয়াদের শেষপর্যায়ে এসে তাড়াহুড়ো করে একের পর এক অধ্যাদেশ জারি করছে, যেগুলোর অনেকগুলোর ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা অনিশ্চিত। তথ্য ও সম্প্রচার কমিশন এবং গণমাধ্যম কমিশন গঠনের অধ্যাদেশগুলোকে তিনি ‘জোড়াতালি’ উদ্যোগ হিসেবে আখ্যা দেন। তবে গণমাধ্যম কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশের আগে কোনো সংবাদমাধ্যম বন্ধ না হওয়াকে সরকারের একটি সীমিত সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রুবায়েত ফেরদৌস বলেন, ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় সংসদ ও গণমাধ্যমের কার্যকর জবাবদিহিতা অপরিহার্য। জবাবদিহিতার সংস্কৃতি দুর্বল থাকায় সরকারকে নিয়ন্ত্রণের কাঠামো কার্যকর হয়নি।
অধ্যাপক এস. এম. শামীম রেজা বলেন, ভবিষ্যতে স্বাধীন গণমাধ্যম নিশ্চিত করতে হলে আগামী সরকার গঠনের আগেই গণমাধ্যমকে আত্মসমালোচনা করতে হবে। তিনি সাংবাদিকদের বেতন কাঠামো, সুরক্ষা আইন, প্রেস কাউন্সিলের কার্যকারিতা এবং দমনমূলক আইন সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
সংলাপে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক এ. কে. এম. মনজুরুল ইসলাম, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, প্রথম আলোর ইংরেজি ওয়েব বিভাগের প্রধান আয়েশা কবিরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।









