চলতি বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে বাংলাদেশের সীমানায় ‘পুশ-ইন’ শুরু করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। তবে এখন পর্যন্ত কতজনকে ঠেলে পাঠানো হয়েছে, তা নিয়ে ভারত সরকার আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। বাংলাদেশের শীর্ষ প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, শুধু মে মাসেই আসামসহ কয়েকটি রাজ্য থেকে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। গতকালও নেত্রকোনা, জামালপুর ও লালমনিরহাট সীমান্ত দিয়ে আরো ৩৮ জনকে পুশ-ইন করেছে বিএসএফ।

বিজিবি জানায়, নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার সীমান্ত দিয়ে ২১ জনকে ঠেলে দিয়েছে বিএসএফ। তাদের মধ্যে ১৯ জন তৃতীয় লিঙ্গের ও দুজন পুরুষ রয়েছেন। তাদের বাড়ি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজবাড়ী, পটুয়াখালী, মৌলভীবাজার, জামালপুর, টাঙ্গাইল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন এলাকায়। গতকাল ভোর ৫টার দিকে বিজয়পুর সীমান্ত দিয়ে ভারতের মেঘালয় সীমান্তের কাছে তাদের পুশ-ইন করা হয় বলে জানিয়েছেন নেত্রকোনা ৩১ বিজিবির বিজয়পুর ক্যাম্প কমান্ডার শহীদুল ইসলাম।

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর সীমান্ত দিয়ে চার নারীসহ সাত জনকে পুশ-ইন করা হয়েছে। গতকাল ভোরে ধানুয়া কামালপুর সীমান্তের ১০৮৩ নম্বর পিলারের কাছ দিয়ে তাদের পুশ-ইন করে বিএসএফ। স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করে বকশীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করেন বলে জানিয়েছেন ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ। তাদের বাড়ি ফরিদপুর, খুলনা, বাগেরহাট ও বরগুনা জেলায়।

এছাড়া লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্ত দিয়ে ১০ জনকে পুশ-ইন করেছে বিএসএফ। গতকাল সকালে স্থানীয়রা তাদের ঘোরাঘুরি করতে দেখে সন্দেহ হলে বিজিবিকে খবর দেয়। পরে দুর্গাপুর বিওপি ক্যাম্পের টহলরত বিজিবি সদস্যরা তাদের আটক করে বলে জানিয়েছেন ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম।

এর আগে বুধবার রাতে আদিতমারীর ৯২৫ নম্বর মেইন পিলার সংলগ্ন সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেয় বিএসএফ। গভীর রাতে সীমান্ত অতিক্রম করলেও তারা আশপাশে কোথাও যেতে না পেরে সেখানেই অবস্থান করছিলেন।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, আটকরা সবাই সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং নিজেদের কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা বলে দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক দশক আগে জীবিকার সন্ধানে তারা ভারতে যান এবং দীর্ঘদিন হরিয়ানা রাজ্যে অবস্থান করেন।