তরুণদের ব্যবসা-বাণিজ্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
এ সময় রাষ্ট্রপতি দেশের জ্বালানি ব্যবস্থা দ্রুত গড়ে তুলতে ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উদীয়মান আধুনিক প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় তরুণ উদ্যোক্তাদের বেশি সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।’ একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে ব্যাংক সুদের হার কমানোর ওপর জোর দেন তিনি। এ সময় রাষ্ট্রপতি সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমানের আমলে স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ‘এতে রাজশাহী ও উত্তরাঞ্চলের মতো পিছিয়ে থাকা অঞ্চলে শিল্পায়ন ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছিল। নতুন কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল, যা ছিল একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।’
ডিসিসিআই আয়োজিত আসন্ন ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।
ডিসিসিআই প্রতিনিধিরা জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।
এ সময় তারা সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে আগামী দুই বছরের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের সমস্যাগুলো সমাধান করে সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তারা রাষ্ট্রপতির কাছে বিভিন্ন দাবি, সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতি সামাজিক উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কাজে ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং ডিসিসিআই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির: রাষ্ট্রপতি দেশের সব ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের উন্নয়ন, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল দুপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মৃগেন হাগিদকের নেতৃত্বে ৫২ সদস্যের প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিশির দিওসহ কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন জেলা কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও সচিব উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত বিষয় রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘পাহাড় ও সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তবে নিজেদের অধিকার ও উন্নয়নের জন্য ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষকেও আরো উদ্যোগী হতে হবে। নিজেদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা এক পা এগিয়ে এলে আমিও দুই পা এগিয়ে যাব।’ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করে বাস্তবভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের ভূমি-সংক্রান্ত সমস্যা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নিজেদের অধিকার রক্ষায় তাদেরও সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে।’ মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় খাসিয়া পুঞ্জির পানগাছ কাটার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’ বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
তিনি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিশু-কিশোরদের শিক্ষার সুযোগ ও মানোন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রপতি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে আরো সামনে নিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় তিনি আগামী পহেলা বৈশাখে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে বঙ্গভবনে প্রস্তাবিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।










