বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের গাড়িতে হামলা মামলার অন্যতম আসামি আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানের স্ত্রী ফেরদৌসী খানের নামে ১৫১টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সাদেক খানের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ও নিজ নামে ২৯টি এবং তার ছেলে ফাহিম সাদেক খানের নামে ৭০টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পাওয়া গেছে। বুধবার (৮ জানুয়ারি) দুদকের মুখপাত্র মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, তাদের তিনজনের নামে তিনটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

দুদকের মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সাদেক খানের স্ত্রী ফেরদৌসী খানের ১৫১টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৭৩ কোটি ৩২ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য মিলেছে। ফাহিম সাদেক খানের নামে ৭০টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা এবং সাদেক খানের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ও নিজ নামে ২৯টি অ্যাকাউন্টে ৪৬৬ কোটি ৪৭ রাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য মিলেছে।

দুদক জানিয়েছে, ফেরদৌসী খানের নামে সিটি ব্যাংকে ২৯, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে ১০৫, ন্যাশনাল ব্যাংকে ৮, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ৬, আইএফআইসি ব্যাংকে ১ ও ব্র্যাক ব্যাংকে ২টি হিসাব রয়েছে। সাদেক খানের স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে ১২, ন্যাশনাল ব্যাংকে ১১, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ৩, ডাচ-বাংলা ব্যাংকে ১ ও ব্র্যাক ব্যাংকে ২টি হিসাব রয়েছে। ফাহিম সাদেক খানের নামে সিটি ব্যাংকে ৪, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে ৩৬, ন্যাশনাল ব্যাংকে ১২, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ১৫, ডাচ-বাংলা ব্যাংকে ১ ও ব্র্যাক ব্যাংকে ২টি হিসাব রয়েছে।

গত ২৪ আগস্ট সাদেক খানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সাদেক খান একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের ৪ আগস্ট রাতে সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের মোহাম্মদপুরের বাসায় নৈশভোজে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। নৈশভোজ শেষে তিনি গাড়িতে ওঠার সময় হামলাটি হয়।

১৯৯৭ সালে সাদেক খান অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সর্বকনিষ্ঠ কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে ২০০১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি তৎকালীন ৪৭ নং ওয়ার্ড ও বর্তমান ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে চারবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ কাউন্সিলরের পুরস্কারও পেয়েছিলেন। তিনি তখন দুবার ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।

সাদেক খান ১৯৯৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

সাদেক খান ১৯৭৩ সালে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। সবশেষ তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।