লালমনিরহাটের মোগলহাট এলাকায় গতকাল ধরলা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া দুই সহোদরের মধ্যে সাব্বির হোসেন (১৬) নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অপর সহোদর শাওন হোসেনের সন্ধান মেলেনি।

লালমনিরহাট ফায়ার সার্ভিসের দলনেতা কাজীরুল ইসলাম জানান, নিখোঁজ সাব্বির হোসেনের মরদেহ ডুবে যাওয়ার স্থান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার ভাটিতে মোগলহাট বিজিবি ক্যাম্পের দক্ষিণ দিক থেকে সোমবার সন্ধ্যায় উদ্ধার করা হয়েছে।

মৃত সাব্বির হোসেন মোগলহাট মেডিকেল মোড় (কর্ণপুর) এলাকার হেলাল হোসেনের ছেলে। তিনি মোগলহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। শাওন সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সদর উপজেলার মোগলহাট মেডিকেল মোড় এলাকার আব্দুল আজিজের ছেলে মেহেদী হাসান এবং একই এলাকার হেলাল হোসেনের ছেলে সাব্বির হোসেন ও শাওন হোসেন ধরলা নদীতে গোসল করতে নামে। এ সময় স্থানীয় আব্দুল্লাহ আল মামুন নামের এক ব্যক্তি মেহেদীকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও দুই সহোদরকে উদ্ধার করতে পারেননি। পরে বিষয়টি স্থানীয় মোগলহাট বিজিবি, থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়। ফায়ার সার্ভিস অনেক চেষ্টা করেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করতে পারেনি। সোমবার সন্ধ্যা ৬টার পর সাব্বিরের মরদেহ ভেসে যেতে দেখে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তা উদ্ধার করেন।

মৃত সাব্বিরের বাবা হেলাল হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বড় ছেলেসহ আমি ঢাকায় যাত্রীবাহী বাসে চাকরি করি। চিকিৎসার জন্য কিছুদিন ধরে আমার স্ত্রীও ঢাকায় থাকেন। গ্রামের বাড়িতে মেয়ে সামিয়াসহ দুই ছেলে থাকত। খবর পেয়ে আমরা ঢাকা থেকে সোমবার ভোরে মোগলহাটে গ্রামের বাড়িতে এসেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘মেয়ের কাছে জানতে পারি, স্কুল থেকে বাড়িতে ফিরে বড় ছেলে সাব্বির তার বন্ধু মেহেদী ও ছোট ভাই শাওনকে নিয়ে মোগলহাট বিজিবি ক্যাম্পের সামনে ধরলা নদীতে গোসল করতে যায়। মেহেদী ফিরে এলেও আমার দুই ছেলে ডুবে নিখোঁজ হয়। আমরা ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে সোমবার ভোরে বাড়িতে পৌঁছাই। সন্ধ্যা ৬টার পর ফায়ার সার্ভিস সাব্বিরের মরদেহ উদ্ধার করে। এখন পর্যন্ত ছোট ছেলে শাওনের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।’

লালমনিরহাট ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ মো. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘দুই সহোদর সাব্বির ও শাওন রোববার দুপুরে ধরলা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয়েছিল। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে সাব্বিরের মরদেহ পাওয়া যায়। শাওনের সন্ধানে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

লালমনিরহাট সদর থানার ওসি সাদ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সাব্বির হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। শাওনের সন্ধানে অভিযান চলমান রয়েছে।’

মোগলহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইয়েদুল ইসলাম বলেন, ‘সাব্বির ও শাওন রোববার বিদ্যালয়ে এসেছিল। তাদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বিদ্যালয়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। এখন দুই শিক্ষার্থীর পরিবারে শোক বিরাজ করছে।’