যশোর জেলা হঠাৎ অশান্ত হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের গত দেড় মাসে পাঁচটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এ জেলায়। এছাড়া ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটেছে অসংখ্য। এ নিয়ে জেলাবাসীর মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত বছর জেলায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে ৬৩ জন। সর্বশেষ প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন যুবলীগ কর্মী ইয়াসিন আরাফাত।
বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরে পাওয়া গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে জেলায় হত্যার ঘটনা ঘটেছে চারটি। আর চলতি মাসে একটি। এর মধ্যে ৮ জানুয়ারি যশোর-ছুটিপুর হালসা সেতুর কাছ থেকে তৃতীয় লিঙ্গের সদস্য লাভলীর (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি শহরের ধর্মতলায় ভাড়া থাকতেন। এ ঘটনায় পাঁচজনের নামে মামলা হয়েছে। পুলিশ আসামি সবাইকে আটক করেছে। এরা হলেন সেলিনা, নাজমা, মেহেদী, শাকিল ও পারভেজ।
১০ জানুয়ারি অভয়নগরের নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য উত্তম সরকারকে (৩৮) চাঁদার দাবিতে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি উপজেলার হরিদাসপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। ১৮ জানুয়ারি শার্শা উপজেলার উলাশী ধলদা গ্রামের খালপাড় থেকে ইজিবাইকচালক শিক্ষার্থী শাকিবকে (১৬) হত্যার পার তার বাইকটি নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। নিহত শিক্ষার্থী ঝিকরগাছা উপজেলার পুরন্দপুর গ্রামের শাকিল হোসেনের ছেলে। ২০ জানুয়ারি ঝিকরগাছা কপোতাক্ষ নদের তীর থেকে ইয়াকুব আলীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি উপজেলার ব্যাংদা গ্রামের তাকবির হোসেনের ছেলে।
সর্বশেষ ১৬ ফেব্রুয়ারি যশোরে যুবলীগ কর্মী ইয়াসিন আরাফাত ওরফে হুজুর ইয়াসিন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, পূর্বশত্রুতার কারণে স্বর্ণকার রানা ও তার ভাই রুবেলসহ একদল সন্ত্রাসী শহরের শংকরপুর আকবর মোড়ের ফ্রেন্ডস ক্লাবের মধ্যে কুপিয়ে হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ ও র্যাবের হাতে পাঁচজন আটক হয়েছেন। এর মধ্যে হাফিজুর ও শান্ত নামে আটক দুজন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়া গত দেড় মাসে জেলায় অসংখ্য ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটেছে।
যশোর পুলিশের মুখপাত্র ডিবির ওসি রূপন কুমার সরকার জানান, সবকটি হত্যার ঘটনায় পুলিশ আসামিদের দ্রুত আটক করেছে। সন্ত্রাসীরা যাতে অপরাধ করতে না পারে সেজন্য পুলিশ সর্বদা সতর্ক। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না।









