শিশুদের একটি অংশ এখনো বিদ্যালয়ের বাইরে রয়ে গেছে। আরেকটি অংশ আছে যারা বিদ্যালয়ে গিয়েও শিখতে পারছে না। শিখনবঞ্চিত শিশুদের হার নির্ণয়ে একটি মানদণ্ড ব্যবহার করে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো, যার নাম দেয়া হয় ‘লার্নিং পভার্টি’ বা শিখন দারিদ্র্য। বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে, বাংলাদেশের ৫৮ শতাংশ শিশুই শিখন দারিদ্র্যের শিকার।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিখন দারিদ্র্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। ‘এন্ডিং লার্নিং পভার্টি: হোয়াট উইল ইট টেক?’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, বাংলাদেশের ৪ দশমিক ৯ শতাংশ শিশু এখনো বিদ্যালয়ের বাইরে রয়ে গেছে। এছাড়া বিদ্যালয়গামী একজন শিক্ষার্থীর যা শেখার কথা, তার ন্যূনতমও শিখতে পারছে না ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ‘লার্নিং পভার্টি’ বা শিখন দারিদ্র্যের হার ৫৮ শতাংশ। বাংলাদেশের পরিস্থিতি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ২০১৭ সালের তথ্য বিবেচনায় নেয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘লার্নিং পভার্টি’ কমিয়ে আনার বিষয়টি এসডিজি ৪-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিশ্বব্যাংক তাদের নিজস্ব সার্ভে নয়; সরকারি প্রতিষ্ঠানের জরিপে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। আমাদের সরকার প্রাথমিক শিক্ষার মূল্যায়নে প্রতি দুই বছর পর এনএসএ জরিপটি চালায়, মাধ্যমিকেও লার্নিং অ্যাসেসমেন্ট করা হয়। এটি প্রশংসার দাবিদার। তবে জরিপের ফলে শিক্ষার যে চিত্র উঠে এসেছে, তা খুবই হতাশাব্যঞ্জক। আসলে ভালো শিক্ষক না থাকায় এমনটি হচ্ছে। শহর অঞ্চলের বিদ্যালয়ে ভালো শিক্ষক থাকায় সেসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্সও ভালো। আবার অন্যদিকে চা বাগান কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলে গেলে দেখা যাবে, সেখানে ভালো শিক্ষক নেই। ফলে শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্সও খারাপ। তাই আমাদের দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সরকারকে বিনিয়োগও বাড়াতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে শতাধিক দেশের ‘লার্নিং পভার্টি’ বা শিখন দারিদ্র্যের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালে পার্শ্ববর্তী দেশ