নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রাম হানাদারমুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে কুড়িগ্রাম মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের যৌথ উদ্যোগে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা এবং মুক্তিযোদ্ধা ও সংগঠনকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা  হয়েছে।

গতকাল সকালে কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর থেকে বিজয় শোভাযাত্রা কুড়িগ্রাম শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্বাধীনতার বিজয় স্তম্ভে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিভিন্ন সংগঠন ও শ্রেণী-পেশার মানুষ। পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক নিলুফা ইয়াসমিন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম টুকু, বীরপ্রতীক আব্দুল হাই, বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন-অর-রশিদ লাল, আমিনুল ইসলাম, বাসদ নেতা মোনাব্বর হোসেন মিন্টু, ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক দুলাল বোস, মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রতিমা রায় চৌধুরী, কমিউনিস্ট পার্টির নেতা সুব্রত রায়, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক শ্যামল ভৌমিক প্রমুখ।

এ সময় ১৯৭১ সালে কুড়িগ্রাম মুক্ত করে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনকারী বীরপ্রতীক আব্দুল হাইকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম মঞ্জু মণ্ডল, সিরাজুল ইসলাম টুকু ও সংগঠন হিসেবে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট কুড়িগ্রাম শাখাকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশেষ অবদান রাখায় সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে কুড়িগ্রামকে হানাদার মুক্ত করা হয়। সেদিন ৬ নং সাব সেক্টরের কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল হাই বীরপ্রতীকের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা দল কুড়িগ্রাম শহরে প্রবেশ করে পানির ট্যাংকির ওপর স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করে। দেশ স্বাধীনের পর থেকে প্রতি বছরের ৬ ডিসেম্বর নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটি  পালন করে কুড়িগ্রামবাসী।