বান্দরবান-চিম্বুক সড়ক থেকে হাতিভাঙ্গা ত্রিপুরাপাড়া পর্যন্ত ৭৫৫ মিটার সড়কটি ২০১৬ সালে ইটের সলিং করে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ। তখন পাহাড়ের ছয় ফুট পর্যন্ত অংশ কাটা পড়ে। এবার নতুন করে আরো নয় ফুট বেশি পাহাড় কেটে একই সড়ক পুনরায় নির্মাণ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। আবার পাহাড় কাটা মাটি দিয়ে জমির শ্রেণী পরিবর্তন করতে ভরাট করা হচ্ছে পুকুর ও জলাধার। খাড়াভাবে পাহাড় কাটার ফলে ঝুঁকিতে পড়েছে সড়কঘেঁষা একটি ভবন ও দুটি ট্রান্সফরমারসহ বিদ্যুতের কয়েকটি আরসিসি খুঁটি।

এদিকে বান্দরবান-কেরানীহাট (কেবি) সড়ক থেকে বান্দরবান হিল রিসোর্ট ও হাফেজঘোনা হিন্দু মন্দির পর্যন্ত ৩৫৫ মিটার দৈর্ঘ্যের আরেকটি নতুন সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বান্দরবান পৌরসভা। পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডে এ সড়ক নির্মাণের জন্যও অবাধে কাটা চলছে পাহাড়। নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতকরণ প্রকল্পের (ইউজিআইআইপি-৩) ৯ নং ওয়ার্ডে নতুন কার্পেটিং রাস্তা নির্মাণ স্কিমের প্রাক্কলন ব্যয় ১ কোটি ৩৫ লাখ ১১ হাজার টাকা। মেসার্স মমিনুল হক জেভি (জয়েন্ট ভেঞ্চার) ইউটিমংয়ের নামে পাওয়া কাজটি বাস্তবায়ন করছেন ঠিকাদার উজ্জ্বল কান্তি দাশ।

এলজিইডির উপজেলা অফিস সূত্র জানায়, বান্দরবান-চিম্বুক থেকে হাতিভাঙ্গা ত্রিপুরাপাড়া পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য ৭৫৫ মিটার। নতুন সংস্কারকাজের পর সড়কটির প্রস্থ হবে ১৯ ফুট। যাতায়াতের সুবিধার্থে সড়কটির উঁচু অংশে নয় ফুট পর্যন্ত পাহাড় কেটে কার্পেটিং সড়ক হবে। এছাড়া এ সড়কে ড্রেন ও একটি ইউ বক্স নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সড়কটি বড় করে নির্মাণের জন্য একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার জেলা ব্যবস্থাপক খুশিরায় ত্রিপুরার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডিও লেটার দেন। ১ কোটি ১১ লাখ ৭৮ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউটিমংয়ের নামে পাওয়া কাজটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছেন স্থানীয় ঠিকাদার হারুন ও রকি।

সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায়, হাতিভাঙ্গাপাড়া যাওয়ার সড়কটির প্রথম বাঁকে অপরিকল্পিতভাবে প্রায় ৯০ ডিগ্রি খাড়া করে এক্সক্যাভেটর দিয়ে পাহাড় কাটা হচ্ছে, যা আগের কাটা অংশ থেকে আরো সাত ফুট গভীর। অর্থাৎ বর্তমানে ১৩ ফুট নিচু করে পাহাড় কাটা হয়েছে। খাড়াভাবে পাহাড় কাটার ফলে ঝুঁকিতে পড়েছে একটি ভবন ও দুটি ট্রান্সফরমারসহ বিদ্যুতের কয়েকটি আরসিসি খুঁটি। পাহাড় কাটার মাটি ট্রাকে করে নিয়ে হাফেজঘোনা নতুন বাসস্টেশন ঘেঁষে প্রবাহিত ছড়ার পাশে, মেম্বারপাড়ার জলাধারে ফেলা হচ্ছে।

পুকুর ভরাট করতে প্রশাসনের অনুমোদন নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে স্থানীয় বাসিন্দা ভুপাল পাল বলেন, নিজের পুকুর ভরাট করছি। তার জন্য প্রশাসনের অনুমোদন লাগে না।

হাতিভাঙ্গা সড়ক সংস্কারকাজের এলজিইডির ঠিকাদার হারুণ বণিক বার্তাকে বলেন, শুরু থেকে এ পর্যন্ত আট ফুট পাহাড় কেটে সড়ক নিচু করা করা হয়েছে। পাথুরে পাহাড় হওয়ায় কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছে। তবে আমরা মাটি কাটার কাজ শুরু কারার আগে সড়কটিতে মাটি কাটার কাজ করছিলেন ঠিকাদার সেন্টু।

জেলা পরিষদের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, পূর্বের কাটা স্তর থেকে আরো পাঁচ ফুট পর্যন্ত পাহাড় কেটে নিচু করা হয়েছে।

এসব বিষয়ে বান্দরবান জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী বণিক বার্তাকে বলেন, ফাইলপত্র সব অডিট করানোর জন্য নিয়ে গেছে। অডিট শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এলজিইডির বান্দরবান নির্বাহী প্রকৌশলী এনএসএম জিল্লুর রহমান বলেন, এটি এলজিইডির তালিকাভুক্ত সড়ক। স্কিম নেয়ার আগে কেউ এলজিইডিকে অবগত করেনি।

এদিকে ঝুঁকিতে পড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন ও খুঁটিগুলোর বিষয়ে জানা নেই বলে দাবি করেছেন পিডিবির বান্দরবান নির্বাহী প্রকৌশলী চিংহ্লামং মারমা।

দুই স্থানের মধ্যে পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডে অনুমোদন ছাড়া পাহাড় কাটাসংক্রান্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবানের পরিদর্শক মো. আব্দুছ ছালাম। তিনি বলেন, শিগগিরই অন্য সড়কটি পরিদর্শন করে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেয়া হবে।