বান্দরবানের সদর উপজেলার রাজবিলা ইউনিয়নে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পাড়ার রাস্তায় গুলি করে হত্যা হয়েছে যুবলীগ কর্মী মংসিংউ মারমাকে (৪০)। 

গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া ৮টার দিকে ইউনিয়নের চিংক্যউপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। মরদেহ উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তবে এই ঘটনার সঙ্গে করা জড়িত সে ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয়রা জানায়, রাত সোয়া ৮টার দিকে বাঘমারা বাজার থেকে কমবেশি এক কিলোমিটার দূরে চিংক্যউপাড়ায় মংসংউ মারমা তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিজ বাড়িতে রাতের খাবার খেতে বসেছিলেন। এসময় দুই জন সশস্ত্র তার বাড়িতে ঢুকে তাকে বাড়ির বাইরে ডেকে নিয়ে যায়। এর পরপরই পাড়ার রাস্তায় তাকে গুলি করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ।

গত ৭ জুলাই রাজবিলা ইউনিয়নের বাঘমারা বাজারপাড়ায় জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) তিন শীর্ষ নেতাসহ ছয়জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডে জনসংহতি সমিতির আরেক গ্রুপকে দায়ী করে এমএন লারমা গ্রুপ।

মঙ্গলবার রাতে আবারও চিংক্যউপাড়ায় গুলিতে এক ব্যক্তির নিহত হওয়ার ঘটনায় চিংক্যউপাড়া ও বাঘমারা বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। 

সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত মংসিউ মারমা যুবলীগের কর্মী ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন রাজবিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যঅংপ্রু মারমা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ রেজা সারোয়ার বণিক বার্তাকে বলেন, লাল ও কালো রঙের টি-শার্ট ও থ্রি-কোয়ার্টার পরিহিত দুজন সশস্ত্র ব্যক্তি বাড়িতে ঢুকে মংসিংউ মারমাকে বাড়ির বাইরে ডেকে নিয়ে যান। এসময় তার স্ত্রীও সঙ্গে যান। বাড়ির উঠান পেরিয়ে পাড়ার সড়কে পৌঁছলে দাঁড়িয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ওই নারীকে বাড়িতে ফিরে যেতে বলে। সন্ত্রাসীদের ভয়ে ওই নারী বাড়ির উদ্দেশে কয়েক কদম হাঁটার পরই মংসিংউকে গুলি করে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মরদেহ বান্দরবান সদর হাসপাতালে আনা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেফতার করতে তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলার করা হবে বলে জানান তিনি।