লালমনিরহাটে একটি যাত্রীবাহী কমিউটার ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে পড়ায় জেলাটির সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। চিলমারী কমিউটার ট্রেনটি লাইনচ্যুত হওয়ায় তিনটি ট্রেনকে আলাদা আলাদা স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এতে চরম দুর্ভোগ পোহায় যাত্রীরা। ৪ ঘণ্টা পর ট্রেনটি উদ্ধার করা হলে রেল যোগাযোগ পুনরায় চালু হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের মহেন্দ্রনগর স্টেশনে প্রবেশের সময় ট্রেনটির বগি লাইনচ্যুত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. নুরুন্নবী।
লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগীয় সদর দপ্তর সূত্র জানায়, চিলমারী রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা ‘চিলমারী কমিউটার’ ট্রেনটি লালমনিরহাটের মহেন্দ্রনগর রেলওয়ে স্টেশনে লাইনচ্যুত হয়। এ কারণে সান্তাহার থেকে ছেড়ে আসা বুড়িমারী স্থলবন্দরগামী করতোয়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি কাউনিয়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকে। এছাড়া সান্তাহার থেকে ছেড়ে আসা লালমনিরহাটগামী পদ্মরাগ এক্সপ্রেস ট্রেনকেও তিস্তা রেলওয়ে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অন্যদিকে বুড়িমারী স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা দিনাজপুরের পার্বতীপুরগামী বুড়িমারী কমিউটার ট্রেনটি লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশন প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে লালমনিরহাট রেলওয়ে সদর দপ্তরের সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
লালমনিরহাট প্লাটফর্মে অপেক্ষারত যাত্রী মো. শফিকুল ইসলামের গন্তব্য বুড়িমারী। তিনি জানান, তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় করেছি। তার পরও ট্রেনের কোনো খবর নেই। বেলা ২টায় লালমনিরহাট থেকে বুড়িমারীর উদ্দেশে করতোয়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল।
লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. নুরুন্নবী বলেন, ‘প্লাটফর্মে সময়মতো ট্রেনগুলো না পৌঁছানোর কারণে যাত্রীদের ভিড় হয়। তবে কর্তৃপক্ষ দ্রুত লাইনচ্যুত ট্রেনটি উদ্ধার করে লাইন ক্লিয়ারের চেষ্টা চালায়।’
ঘটনার পরপর এ প্রতিবেদককে লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগীয় ম্যানেজার মো. আব্দুস সালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী একটি দল পাঠানো হয়েছে। আশা করা যায়, কিছুক্ষণের মধ্যেই সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। এরপরই ট্রেনগুলো নির্দিষ্ট গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।’










