সারা দেশে পরিবেশবান্ধব জিগজ্যাগ ইটভাটা ভাঙচুর, জরিমানা এবং বন্ধ করে দেয়ার প্রতিবাদে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট ছয় দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

রোববার (২৩ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ খাতের নানা সমস্যা ও আর্থিক প্রভাব তুলে ধরে দ্রুত সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, দেশের প্রায় সাড়ে ৮ হাজার ইটভাটার ওপর নির্ভর করে ৫০ লাখের মতো মানুষের কর্মসংস্থান এবং প্রায় ২ কোটি মানুষের জীবিকা চলে। যদি এই ভাটাগুলো বন্ধ হয়ে যায়, তবে বিপুলসংখ্যক মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। প্রতিটি ইটভাটার বিপরীতে গড়ে ১ কোটি টাকা করে ঋণ নেয়া আছে। ভাটা বন্ধ হয়ে গেলে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ অনাদায়ী থেকে যাবে।

ইটভাটার মালিকরা প্রতি বছর ভ্যাট ও ট্যাক্স বাবদ সরকারের কোষাগারে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা জমা দেন। বছরে প্রায় ৬ হাজার কোটি ইট উৎপাদন করা হয়, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য অপরিহার্য।

বর্তমানে ‘দূরত্ব নির্দিষ্টকরণ’ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দেশের অনেক জিগজ্যাগ ইটভাটার মালিক ছাড়পত্র ও লাইসেন্স পাচ্ছেন না। যার প্রতিবাদে মালিকরা সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট ৬ দফা দাবি পেশ করেছেন। তাদের প্রধান দাবি হলো— নিষিদ্ধ এলাকার দূরত্ব ৪০০ মিটার এবং বনের দূরত্ব ৭০০ মিটার নির্ধারণ করে লাইসেন্স ও ছাড়পত্র প্রদান করা। এছাড়া, মালিকরা বলছেন যে, জিগজ্যাগ ইটভাটায় কোনো প্রকার হয়রানি বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা যাবে না, এবং যদি কোনো ইটভাটা বন্ধ করতেই হয়, তবে অবশ্যই আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে তা বন্ধ করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে এ শিল্পকে স্থিতিশীল করতে ইটভাটা শিল্পকে আনুষ্ঠানিকভাবে শিল্প হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে এবং ইটভাটা পরিচালনার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি ও পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা দ্রুত প্রণয়ন করতে হবে। মালিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পরিবেশবান্ধব জিগজ্যাগ প্রযুক্তি গ্রহণের পরও দূরত্বের অজুহাতে তারা বারবার অর্থনৈতিক হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হচ্ছেন।

অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জোর দিয়ে বলেন, জিগজ্যাগ ইটভাটা একটি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, যা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেও ব্যবহৃত হয়। তারা সরকারের নির্দেশনায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের ভাটাকে আধুনিকীকরণ করেছেন।