ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন কারাগারে বা আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন গণভোটেও। এ পর্যন্ত কারাগারে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন ৬ হাজার ৩৬৩ বন্দি। এর মধ্যে কারাগারে থাকা একাধিক সাবেক মন্ত্রী-এমপিসহ অর্ধশত ভিআইপি বন্দিও ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন বলে জানা গেছে।

কারা অধিদপ্তর সূত্র বলছে, দেশের ৭২টি কারাগারে বর্তমানে বন্দি রয়েছেন ৮৭ হাজারের কাছাকাছি। ভোট দেয়ার জন্য তাদের মধ্যে নিবন্ধন করেছেন ৬ হাজার ৩৬৩ জন। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনের মধ্যে কেবল সাতজন আগ্রহ দেখিয়েছেন ভোটে। আবার ৪১৩টি নিবন্ধন আবেদন নাকচ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নিবন্ধন করা কারাবন্দিদের মধ্যে ২ হাজার ৬৫৯ বন্দিই ঢাকা বিভাগের। এছাড়া কারাগারের সাত বিভাগ এবং ঢাকার দুই বিভাগসহ মোট নয় বিভাগ থেকে সারা দেশে ৪ হাজার ৭৪৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিবন্ধন করেছেন।

কারাগারের সাংগঠনিক কাঠামোতে ঢাকা বিভাগ দুটি ভাগে বিভক্ত। কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারসহ ১০টি কারাগার ঢাকা বিভাগ-১-এর আওতাভুক্ত। গাজীপুরের কাশিমপুরের চারটি কারাগারসহ ১০টি কারাগার ঢাকা বিভাগ-২-এর আওতাধীন। ঢাকা বিভাগ-১-এর আওতায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ১ হাজার ৫৮ জন, বিশেষ কারাগারে ৮৯ জন, ফরিদপুর জেলা কারাগারে ৫২ জন, নারায়ণগঞ্জে ৮৮ জন, মুন্সিগঞ্জে ২৭ জন, রাজবাড়ীতে ৯৬ জন, মাদারীপুরে ২৬ জন, গোপালগঞ্জে ৩৩ জন ও শরীয়তপুরে সাতজন নিবন্ধন করেছেন। সব মিলিয়ে এ বিভাগে ভোট দেবেন ১ হাজার ৪৭৬ বন্দি। ঢাকা বিভাগ-২-এর আওতায় কাশিমপুর-১-এ ১৬১ জন, কাশিমপুর-২-এ ১৪১ জন, কাশিমপুর মহিলা কারাগারে ৬০ জন, হাই সিকিউরিটি কারাগারে ৬২৯ জন, টাঙ্গাইলে ৮১ জন, কিশোরগঞ্জ-১-এ ১৫ জন, গাজীপুরে ৩৪ জন, নরসিংদীতে ২৮ জন ও মানিকগঞ্জে ৩৪ জন নিবন্ধন করেছেন। সব মিলিয়ে এ বিভাগে নিবন্ধনের সংখ্যা ১ হাজার ১৮৩। এর বাইরে চট্টগ্রাম বিভাগে নিবন্ধন করা বন্দির সংখ্যা ১ হাজার ২ জন, খুলনা বিভাগে ৬৮০, রংপুর বিভাগে ৩১৫, রাজশাহী বিভাগে ৬৮৯, বরিশাল বিভাগে ২৪৫, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫৫ ও সিলেট ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন মোট ৫৬৮ বন্দি।

এদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের বন্দি কর্মী-সমর্থকরা অনাগ্রহ দেখালেও ক্ষমতাচ্যুত সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-এমপি ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন। বিগত সরকারের প্রশাসনে উচ্চপদে থাকা অনেক সচিবের নামেও নিবন্ধন হয়েছে। সব মিলিয়ে ২৫ মন্ত্রী-এমপিসহ মোট ৪৯ ভিআইপি বন্দি ভোট দেয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন বলে জানা গেছে।

সাবেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন দীপু মনি, আসাদুজ্জামান নূর, ইমরান আহমদ, শাজাহান খান, হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, মো. আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, এনামুর রহমান ও শাহজাহান ওমর। সাবেক সংসদ সদস্যরা হলেন শাহে আলম, শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, আবদুস সালাম মুর্শেদী, সাদেক খান, আব্দুল মজিদ খান, সিরাজুল ইসলাম মোল্যা, রইস উদ্দিন, আমিরুল আলম মিলন, আবু রেজা মোহাম্মদ নিজামুদ্দীন, রহিম উল্লাহ, আ ক ম সরোয়ার জাহান, মো. নবী নেওয়াজ, আব্দুল আজিজ, সাদ্দাম হোসেন পাভেল, মো. ফয়জুর রহমান বাদল ও মো. চয়ন ইসলাম। এর বাইরে সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু সুর চৌধুরীও আছেন নিবন্ধন করা বন্দিদের তালিকায়।

কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) জান্নাত-উল-ফরহাদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে ভোটের কার্যক্রম। আগামীকাল বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট দেয়া যাবে। যারা নিবন্ধন করেছেন তাদের প্রত্যেককে একটি প্যাকেটে তিনটি করে খাম দেয়া হচ্ছে। প্যাকেটে নির্দেশাবলিসহ একটি খামে রয়েছে ব্যালট পেপার, অন্য খামে “হ্যাঁ” অথবা “না” ভোটের (গণভোট) ব্যালট পেপার। বড় একটি খামে এ দুই ব্যালট পেপার ঢুকিয়ে আঠা লাগিয়ে দিতে হবে। এ আঠা লাগানোর পর খাম ছেঁড়া ছাড়া খোলা সম্ভব নয়। খামে ভরে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবেন বন্দিরা। কারা কর্তৃপক্ষ সেগুলো পোস্ট অফিসে পাঠাবেন। ডাক বিভাগ এক্সপ্রেস ব্যবস্থায় খামগুলো নির্বাচন কমিশনে পাঠাবে। এরপর নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় জমা পড়া ভোটের সংখ্যা যুক্ত করবে।’