মানুষের চিন্তাগত বৃদ্ধিই প্রকৃত উন্নয়ন বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিশ্লেষক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘জিডিপি প্রবৃদ্ধি দেখলেই উন্নয়ন বোঝা যায় না। জিডিপি প্রবৃদ্ধি কীসের ওপর হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে।’

বুধবার (২৭ নভেম্বর) নেত্রকোনার রাজুর বাজারস্থ শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেহাবি) অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ‘কেমন বিশ্ববিদ্যালয় চাই?’ শিরোনামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজনে আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘গত দেড় দশকের বেশি সময় রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয়কে ভয়ঙ্কর একটি দলীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পান্ডা বাহিনী তৈরি করেছিল। তা না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে যে অবস্থা তৈরি করা হয়েছিল, যা হত্যাচারের কারখানা হিসেবে পরিণত এবং হলগুলো নির্যাতনকেন্দ্রিক হয়েছিল। একজন ছাত্রকে প্রথম বর্ষে আসার পর থেকে নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বাধ্যবাধকতার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে সংগঠনের কার্যক্রম করতে হয়েছে। এটা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র হতে পারে না। এমন ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় চাই না।’

শেহাবির বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আনোয়ার হোসেন ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জেবুন্নাহার বর্ণর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন শেহাবির উপচার্য অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ আশরাফুল মুনিম।

সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কোনো দখলদারি প্রভাব বিস্তারের জায়গা নয়। আমরা তেমন বিশ্ববিদ্যালয় চাই, যে বিশ্ববিদ্যালয় হবে সত্যিকারার্থে বৈশ্বিক জ্ঞানের আধার। যে বিশ্ববিদ্যালয় দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রবেশ করবে—আমি সে স্বপ্ন দেখাতে চাই শিক্ষার্থীদের।’ সর্বোপরি তার বক্তব্যে ‘শিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক ক্যাম্পাস গড়ার’ প্রতিশ্রুতি প্রতীয়মান হয়।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অর্থনীতিবিদ মো. নুরুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি, বিশিষ্ট পরিবেশ বিজ্ঞানী ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. আহসান উদ্দিন আহমেদ, শেহাবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনিছা পারভীন।

এর আগে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শেহাবির অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক শিহাব উদ্দিন সুমন ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেন সিএসই বিভাগের ছাত্র মো. রাজীব মিয়া প্রমুখ।

আলোচনা সভায় শেহাবির বিভিন্ন বিভাগ ও শিক্ষাবর্ষের প্রায় কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী, গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।