বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কের ১৩ কিলোমিটারে কলাতলী বেইলী ব্রিজ হেলে পড়ে সড়কটিতে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। অবশেষে গত বৃহস্পতিবার রাতে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি ট্রাক গাড়ির ধাক্কা লেগে ব্রিজের প্যানেলের এক পাশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরের দিন (গতকাল) শুক্রবারও এ অবস্থায় ব্রিজটির ওপর দিয়ে যান চলাচল করছিলো। এতে আরও বেশি হেলে পড়ে ব্রিজটি। 

এরপরই শনিবার থেকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটির ওপর যান চলাচল বন্ধ করে দেয় সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ)। এতে বান্দরবান সদর ও রোয়াংছড়ি উপজেলার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। দুর্ভোগে পড়েছে সড়কটি ব্যবহারকারী হাজারো মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কের জেলা শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে কলাতলীতে একটি ঝিরির ওপর নির্মাণ করা হয় এই ব্রিজটি। যান চলাচল বন্ধ হওয়া স্থানে এসে বিপাকে পড়া যাতায়াতকারীরা নিজেরা নিজেদের মালপত্র, ব্যবসায়ীক পণ্যসমূহ বহন করে ব্রিজটি পার হচ্ছেন। 

এসময় প্রত্যক্ষর্শীরা জানায়, গত শুক্রবার রাত ১১ টার পর রোয়াংছড়ির দিক থেকে আমবোঝাই একটি ট্রাক আসে। কলাতলী নামার সময় ভারী গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের প্যানেলে ধাক্কা লেগে ব্রিজ হতে ৩০-৪০ ফুট দুরে গিয়ে সড়কে উল্টে পড়ে যায়। এসময় ব্রিজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পর রাতের মধ্যেই বান্দরবান থেকে আনা একটি ক্র্যান গাড়িতে  দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাক গাড়িটিকে তুলে বান্দরবান সদরের দিকে নিয়ে যায়। পরদিন সকালে ব্রিজটির আশপাশে অনেক আম পড়ে ছিলো। এদিন সারাদিন ব্রিজটির ওপর যান চলাচল করছিলো। পরে শনিবার সওজের মানুষজন এসে ব্রিজের ওপর যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।    

সওজ বান্দরবানের উপসহকারী প্রকৌশলী অংশৈপ্রু বাপ্রু মারমা বণিক বার্তাকে বলেন, বর্তমানে ব্রিজটি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। গত দুই সপ্তাহ আগেও মেয়াদোত্তীর্ণ ব্রিজটি সংস্কার করে ত্রুটিমুক্ত করা হয়। এ ব্রিজসহ সড়কের ১২ টি মেয়াদোত্তীর্ণ বেইলী ব্রিজ রয়েছে। ব্রিজগুলোর উপর ঘন ঘন মনিটরিং করা হয়। কোনো ত্রুটি দেখা দিলে সেসব সংস্কার করা হচ্ছে। উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজটি মেরামত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ব্রিজটি মেরামত করতে অন্তত তিন দিন সময় লাগতে পারে।

সওজ বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, আসন্ন ঈদের আগে যাতে হালকা যান চলাচল করতে সে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ঈদের পর ভারী যান চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ করা হবে। এছাড়া তিন পার্বত্য জেলা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার জেলা ও দোহাজারি ডিভিশন ঝুঁকিপূর্ণ বেইলী বিজের ওপর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) দেয়া আছে। অনুমোদন পেলে নতুনভাবে উন্নয়ন কাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।