বিধি অনুযায়ী কোথাও খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে বিএসটিআইয়ের অনুমোদনসহ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেয়া বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে থাকতে হবে ফায়ার লাইসেন্স। নিতে হবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ব্যবসা-বাণিজ্যসংক্রান্ত অনুমোদন। কিন্তু এসব শর্ত পূরণ না করেই বান্দরবান সদর উপজেলায় শুধু ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে দুই বছর ধরে পরিচালিত হচ্ছে একটি মুড়ি কারখানা। ট্রেড লাইসেন্সও মেয়াদোত্তীর্ণ। উৎপাদিত মুড়ি বাজারজাতও করা হচ্ছে। জেলা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে সুয়ালক ইউনিয়নের মাঝেরপাড়া এলাকায় চলছে অনুমোদনহীন মুড়ি কারখানাটির কার্যক্রম।

স্থানীয়রা জানান, আইনের তোয়াক্কা না করেই ২০২০ সালের শুরু থেকে যৌথভাবে কারখানাটি পরিচালনা করছে একটি সিন্ডিকেট। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রায় দুই বছর ধরে এখানে নোংরা পরিবেশে উৎপাদন করা হচ্ছে মুড়ি। একই সঙ্গে বাজারজাতও করা হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাঝেরপাড়াসংলগ্ন ছাইবয় (হরিণমারা) এলাকায় মেঝে পাকা সবুজ টিনের বেড়া ও ছাউনির একটি বড় ঘর রয়েছে। ঘরটি আগুনের ধোঁয়ায় গুমোট হয়ে রয়েছে।  ঘরের ভেতরে অর্ধেক মেঝেজুড়ে স’মিলের ভূষি বিছিয়ে শুকানো হচ্ছে। একই মেঝেতে উন্মুক্ত পরিবেশে চাল ভাজার পর বৈদ্যুতিক পাখার হাওয়ায় তাপ সহনীয় করা হচ্ছে। এ সময় কারখানায় কর্মরত কারিগর নুরুল আলম জানান,  মো. আবদুল মোমেন, মো. সোলায়মানসহ তিনজনের যৌথ মালিকানায় কারখানাটি পরিচালিত হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের কাছে নিজেদের ট্রাকে করে মুড়ি সরবরাহ করার কথা স্বীকার করেছেন আবদুল মোমেন। অনুমোদনের বিষয়ে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ট্রেডলাইসেন্স নিলে হবে। যদি প্যাকেটজাত করি, তাহলে ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি লাগবে। আর কোনো কিছুর অনুমোদন লাগে না। দেড়-দুই বছর ধরে কারখানার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।