মরমী কবি বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের তিন দিনব্যাপী মৃত্যুবার্ষিকী অনুষ্ঠান বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার আহ্বানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।

১৭ অক্টোবর উদ্বোধনের পর আজ শনিবার (১৯ অক্টোবর) কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় লালনের আখড়ায় অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহায়তায় লালন একাডেমি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

একাধারে কবি, গায়ক ও সমাজ সংস্কারক লালন শাহের ১৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লালনের দর্শন নিয়ে আলোচনা সভা, বাউলদের গান পরিবেশনা এবং একটি ‘লালন মেলা’ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন।

তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকিব মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ, কবি ও গবেষক ফরহাদ মজহার এবং খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. হেলাল মাহমুদ শরীফ।

বক্তারা বলেন, আমরা লালনের দর্শনের অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদী দিকটিকে দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করতে পারলে তা একটি বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনে দারুণভাবে কাজে লাগতে পারে।

বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, একশত বছরেরও বেশি সময় আগে লালন সাঁই যে আদর্শ ও দর্শন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা এখনো বিশ্বের চিন্তাবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

তারা বলেন, লালনের দর্শন সংগীতভিত্তিক শাশ্বত দর্শন। লালন সাঁই বিশ্বজুড়ে সুফি দর্শনের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত। এ দর্শনের মূল বিষয় হলো জাতি, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে মানবতাই সর্বোচ্চ।

তারা বলেন, লালনের অন্যতম প্রধান দিক হলো যে ‘এ মহাবিশ্বের স্রষ্টা মানুষের হৃদয়ে অবস্থান করেন।’ তাই মানুষকে ধর্ম, বর্ণ, জাতি বা রঙের ভিত্তিতে বিভক্ত না করে, সব মানুষকে ভালোবাসা ও সহমর্মিতার মধ্য দিয়ে স্রষ্টার নৈকট্য অর্জন করা যায়।

তারা জোর দিয়ে বলেন, লালন বিশ্বাস করতেন, যদি মানুষকে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, জৈন ইত্যাদি বাহ্যিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বিচার করা হয়, মানব হিসেবে দেখা না হয়, তাহলে সমাজে কখনোই শান্তি আসবে না। এটি কেবল তার বিশ্বাস এমন নয়, আধুনিক সভ্যতার মধ্যেও এ বিশ্বাস বিস্তৃত যে প্রকৃত বিশ্বশান্তি মানুষের প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে ও মানবতাকে স্বীকৃতি দিয়েই সম্ভব।

বক্তারা বলেন, অতএব লালনের দর্শন ঘৃণা, বিদ্বেষ ও বৈষম্যহীন সমাজ, জাতি এবং বিশ্ব গঠনের এক অনন্য আলোকবর্তিকা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

তিন দিনের এবারের আয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকসমাগম ঘটে। দেশ-বিদেশ থেকে অনেক বাউল গবেষকও এবার লালনের আখড়ায় আসেন।