মূল্যস্ফীতি না কমলেও সংকোচনমুখী কঠোর মুদ্রানীতির ধারাবাহিকতা থেকে কিছুটা সরে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে নীতি সুদহার বা রেপো রেট ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর জন্য জরুরি তারল্য সহায়তার সুদহার বা স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) রেট ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ শতাংশ করা হয়েছে। তবে স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) রেট ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। নতুন সুদহার আগামী ২ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি কমিটির (এমপিসি) ১৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী, বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ফিরদৌসি নাহার, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ আকতার হোসেন এবং নির্বাহী পরিচালক ড. ইমাম আবু সাইদ উপস্থিত ছিলেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মুদ্রানীতি কমিটির সদস্যরা দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, দেশীয় বিনিয়োগ, বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শ্লথ গতিধারাসহ আন্তর্জাতিক লেনদেন ভারসাম্যসংক্রান্ত বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
প্রসঙ্গত, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কথা বলে ২০২২ সাল পরবর্তী সময় থেকেই নীতি সুদহার (রেপো রেট) বাড়াতে শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংকোচনমুখী মুদ্রানীতির মাধ্যমে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহও টেনে ধরার উদ্যোগ নেয়া হয়। নীতি সুদহার ৫ থেকে ধারাবাহিকভাবে বাড়িয়ে ২০২৪ সালের আগস্টের মধ্যেই ১০ শতাংশে উন্নীত করা হয়, যা এত দিন বহাল ছিল। এর প্রভাবে ব্যাংক ঋণের সুদহার ১৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। যদিও মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশিত মাত্রায় নামানো যায়নি। গত মাসেও (জুন) মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। আর উচ্চ সুদহার ও অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ৫ শতাংশেরও নিচে নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই নীতি সুদহার ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর স্বল্পমেয়াদি তহবিল সংগ্রহের ব্যয় কমবে। এর প্রভাবে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারের সুদহার এবং পরবর্তী সময়ে ব্যাংকঋণের সুদহারেও নিম্নমুখী প্রভাব পড়তে পারে। এতে উচ্চ সুদহারের চাপে থাকা শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কিছুটা স্বস্তি পাবে। চলতি মূলধন ও নতুন বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণচাহিদাও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।










