রাজশাহীতে চিনি, ডালডা, চুন, আটা ও রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে কৃত্রিমভাবে আখের গুড় তৈরির অপরাধে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে বাঘা উপজেলার খোদ্দ বাউসা ও পাঁচপাড়া এলাকায় এ জরিমানা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে সহযোগিতা করেন র্যাব ৫। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাসান-আল-মারুফ।
তিনি বলেন, ভোর ৫টার দিকে তারা অভিযান শুরু হয়ে সকাল ১০টা নাগাদ শেষ হয়। ওই অভিযানে খোদ্দ বাউসা এলাকার সেকেন্দার আলীকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিনি নিজ বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়ে ভেজাল আখের গুড় তৈরি করে বাজারজাত করে আসছিলেন। অভিযানে কারখানা থেকে ৫৫৫ কেজি ভেজাল আখের গুড় ও গুড় তৈরির বিভিন্ন উপকরণ পাওয়া গিয়েছে।
২১ দিন আগে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার এমন একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৭০০ কেজি গুড় জব্দ করে খালে ফেলে দেওয়া হয়। কিন্তু সেই গুড় তুলে আবার কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। নিষেধের পরও একইভাবে গুড় তৈরি করায় আজ বুধবার পুনরায় ওই কারখানায় অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এবার জরিমানা করা হয়।
এদিকে, একইদিনে বাঘার পাঁচপাড়া এলাকার আরেক ভেজাল গুড় প্রস্তুতকারী দুলাল হোসেন মণ্ডলের (৫৮) কারখানায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে ৩০০ কেজি ভেজাল গুড় পাওয়া যায়। এ ঘটনায় দুলাল হোসেন মণ্ডলকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বিকালে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হাসান- আল-মারুফ বলেন, ভোর ৫টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত তারা খোদ্দ বাউসা ও পাঁচপাড়ায় অভিযান চালান। এ অভিযানে ৮৫৫ কেজি ভেজাল গুড়, ৪৫০ কেজি চিনি, ৩ কেজি চুন, ১ কেজি কাপড়ের রং, দেড় কেজি ফিটকিরি, ৪ কেজি ডালডা জব্দ করা হয়। পরে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এই গুড় ও গুড় তৈরির উপকরণ প্রকাশ্যে ধ্বংস করা হয়েছে।
হাসান-আল-মারুফ বলেন, চিনি ও ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়ে ভেজাল আখের গুড় তৈরি করে আসছিলেন এ দুই গুড় প্রস্তুতকারী। দীর্ঘদিন ধরেই তারা এ কাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। এ ঘটনায় তাদের ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ অভিযান আরো চলবে বলে জানান হাসান-আল-মারুফ।









