ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩২ হাজার ৭৮৯ কেন্দ্রে ৩২ দশমিক ৮৮ শতাংশ ভোট পড়েছে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
ইসি সচিব বলেন, ২৯৯ আসনের ৪২ হাজার ৬৫১ কেন্দ্রে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ৩২ হাজার ৭৮৯ কেন্দ্রে ভোটের হার ৩২.৮৮ শতাংশ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
সারা দেশে নির্বাচনের সবশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত
নোয়াখালী : নোয়াখালীর বিভিন্ন কেন্দ্রে নারী ও পুরুষ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, একযোগে জেলার ৬টি আসনে ৮৭৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পেরে খুশি নারী ও পুরুষ ভোটাররা।
বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৯টায় জেলা শহর মাইজদীর পৌর কল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের বিএনপি প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান। ভোটারের উপস্থিতি ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণে সন্তুষ্ট তিনি। এ সময় ভোটারদের কেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘ্নে ভোট প্রদানের অনুরোধ জানান তিনি। একই সঙ্গে ভোট গণনা শেষে ফলাফল নিয়ে নেতাকর্মীদের বাড়ি ফেরার আহ্বান জানান।
এর আগে সাড়ে ৭টায় একই কেন্দ্রে ভোট দেন দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমীর ইসহাক খন্দকার। কেন্দ্রগুলোতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গতকাল বুধবার নোয়াখালী-৪ আসনের সুবর্ণচর, জেলা শহর মাইজদীসহ কয়েকটি স্থানে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। বিষয়গুলো প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও প্রশাসনের সহযোগিতা ভালো লেগেছে। মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে সেজন্য প্রশাসনের প্রতি তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে জেলার গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ আসন নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া)। সেখানে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী মাহাবুবের রহমান শামীম ও ১১ দলীয় জোট মনোনীত এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া যায়। তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হাতিয়ার প্রায় সব কেন্দ্রগুলোতে নারী ও পুরুষ ভোটারের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আলাউদ্দিন জানান, সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। তবে ফেসবুকে নানা গুজব ছড়ানো হলেও এসব মিথ্যা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ রয়েছে, সব কেন্দ্রে মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
রাজশাহী : রাজশাহী জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। অনেক কেন্দ্রে ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা গেছে। বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। হালকা শীত থাকলেও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে কেন্দ্রে ছুটে এসেছেন সাধারণ মানুষ। কোনো কোনো কেন্দ্রে বয়োবৃদ্ধ ভোটারদেরও স্বজনদের সহযোগিতায় ভোট দিতে আসতে দেখা গেছে।
কোনো কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে মাত্র ৫ থেকে ৭ মিনিটের মধ্যে সেখানে ‘প্যাট্রোলিং ফোর্স’ পৌঁছে যাবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে। রাজশাহী-1 আসনের তানোর উপজেলার কিসমত বিল্লি উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার বাবুল হোসেন বলেন, ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আশা করছি বিকেল পর্যন্ত সুন্দর এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষ হবে।
রাজশাহী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসক আফিয়া আক্তার জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ভোটগ্রহণে যাবতীয় প্রস্তুতি রয়েছে। আশা করছি জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। নির্বাচন আচরণবিধিমালা কেউ লঙ্ঘন করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
নাটোর : ভোট শুরুর আগেই নাটোরের বিভিন্ন কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। সকাল সাতটা থেকে সাড়ে সাতটার মধ্যে নাটোর-২ (সদর ও নলডাঙ্গা) আসনের শহরের অন্তত পাঁচটি কেন্দ্রে এই চিত্র দেখা গেছে। সকাল সোয়া সাতটায় কানাইখালী এলাকার মছিরুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, একমাত্র প্রবেশমুখে দুটি লাইনে দুই শতাধিক ভোটার দাঁড়িয়ে আছেন।
ভোটার রুহুল আমীন বলেন, ‘আগেভাগে ভোট দেওয়ার জন্য আসছি; কিন্তু দেখি, আমার মতো সবাই একই চিন্তা করে এসেছে।’ সকাল ৭টা ২০ মিনিটে নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে মহিলা বুথের সামনে লম্বা লাইন দেখা যায়। সেখানে বিএনপি প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ভোট দিতে আসবেন বলে গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড় ছিল। সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে মহারাজা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ কেন্দ্রে পুরুষ ও নারী বুথের সামনে অন্তত ৪০০ ভোটার লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ভোটার সেলিম হোসেন বলেন, ‘ভাবছিলাম সকাল সকাল এলে ভিড় হবে না। কিন্তু ভিড় তো হয়েই গেছে।’ প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শাহজাহান আলী বলেন, নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে যান।
সকাল সাড়ে সাতটায় কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রেও একই চিত্র দেখা যায়। সকাল ৮টা পর্যন্ত হরিশপুর, দত্তপাড়া ও হয়বতপুর এলাকার কেন্দ্রগুলোতেও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল। প্রার্থীদের মধ্যে নাটোর-২ আসনে বিএনপির রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু সকাল সাড়ে সাতটায় নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন। নাটোর-১ আসনে বিএনপির ফারজানা শারমিন সকাল পৌনে আটটায় গৌরীপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম সকাল সাড়ে সাতটায় বিলমাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এবং জামায়াত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ সকাল ৮টায় পাইকপাড়া উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন।
জয়পুরহাট : ভোট শুরুর পরপরই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতির খবর পাওয়া যায়। সকাল থেকে নারী ও পুরুষ ভোটারদের সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, সব কেন্দ্রে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার রয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আল-মামুন মিয়া সকাল নয়টায় প্রথম আলোকে বলেন, সকাল সাড়ে সাতটায় সব কেন্দ্রে ভোট শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি এবং প্রার্থীরাও কোনো অভিযোগ করেননি।
নেত্রকোনা : নেত্রকোনায় বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়লেও অধিকাংশ কেন্দ্রে এখনো আশানুরূপ উপস্থিতি দেখা যায়নি। নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে শহরের মোক্তারপাড়া এলাকার দত্ত উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আতিকুর রহমান আকন্দ জানান, এ কেন্দ্রে ভোটার ২ হাজার ৬৯৯ জন, এর মধ্যে নারী ১ হাজার ৪৪২ জন। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, পাঁচটি আসনের কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি। নেত্রকোনা-২ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ২ হাজার ২৩৮ জন।
পটুয়াখালী : পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের ৭৪টি কেন্দ্রে ভোট শুরুর আগ থেকেই ভোটাররা কেন্দ্রে আসতে শুরু করেন। সকাল সোয়া আটটায় বিএনপি প্রার্থী এবিএম মোশাররফ হোসেন কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন। খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সরকারি এমবি কলেজ কেন্দ্রে সকালবেলায় তুলনামূলক কম উপস্থিতি দেখা যায়।
প্রিসাইডিং কর্মকর্তা তানভীর মাহমুদ বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গার দুটি আসনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা-১ ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চুয়াডাঙ্গা-১ (আলমডাঙ্গা ও সদর উপজেলার একাংশ) আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. শরীফুজ্জামান ভিক্টোরিয়া জুবিলি সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন। একই সঙ্গে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হওয়ায় ভোটগ্রহণে কিছুটা ধীরগতি দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।
চুয়াডাঙ্গা-২ (দামুড়হুদা, জীবননগর ও সদর উপজেলার একাংশ) আসনে বিএনপির মাহমুদ হাসান খানসহ অন্য প্রার্থীরাও সকালে নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোট দেন। ভিক্টোরিয়া জুবিলি কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
নওগাঁ : নওগাঁর ছয়টি আসনে সকাল সাড়ে সাতটা থেকেই প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। শহরের কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে জানা যায়, প্রথম ঘণ্টায় ভোট পড়েছে প্রায় ৯ থেকে ১০ শতাংশ। নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের নামাজগড় গাউসুল আজম মাদ্রাসা কেন্দ্রে সকালে ভোটারদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
নীলফামারী : নীলফামারীতে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ভোটার উপস্থিতি। সাড়ে আটটার দিকে শহরের পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে নারী-পুরুষ ভোটারদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে দেখা যায়। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জানান, চারটি আসনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে, সকাল ১০টা পর্যন্ত কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
বগুড়া : বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় সকাল থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। সকাল থেকেই কেন্দ্রে উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
লাঙ্গলমোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল ৯টা বাজার পর থেকেই কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোর থেকে ভোটারের উপস্থিতি দেখা যায়। ছবি: প্রথম আলো
ভোলা : দ্বীপ জেলা ভোলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোর থেকেই ভোটারদের কেন্দ্রমুখী হতে দেখা যায়। ইউনিয়ন পর্যায়ের কেন্দ্রগুলোতে সকালেই উপস্থিতি বেশি ছিল, শহরে তুলনামূলক কম হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বাড়ছে। কিছু কেন্দ্রে কুয়াশার কারণে আলোর সংকট দেখা দেয়। আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় ভোটার শনাক্তে সমস্যা হয়েছে। কোথাও কোথাও এজেন্টদের দেরিতে আসায় ভোট শুরুর সময় সামান্য বিলম্ব হয়।
মেহেরপুর : মেহেরপুরে সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের লম্বা সারি দেখা গেছে। এখন পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
মেহেরপুর-১ আসনের সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ও মুজিবনগর সরকারি কলেজ কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, শীত উপেক্ষা করে নারী-পুরুষ ভোটার লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছেন। তরুণ ভোটারদের মধ্যেও উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ এনামুল কবির বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
মানিকগঞ্জ : জেলার ৫১৫টি কেন্দ্রে ভোট নেওয়া হচ্ছে। বালিয়াখালী সদর উপজেলার গিলন্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নারী ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল।
ঝিনাইদহ : সকাল সাড়ে সাতটায় ঝিনাইদহে লম্বা লাইন ও ব্যাপক উৎসাহের সঙ্গে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ঝিনাইদহ-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খান সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে শোয়াইবনগর দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট দেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, ভোট সুষ্ঠু ও নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ১১ হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। এতে পুলিশ, আনসার, সেনা, র্যাব, বিজিবি ও ম্যাজিস্ট্রেটদের ভ্রাম্যমাণ দল অন্তর্ভুক্ত।
বরিশাল : নগরের বিভিন্ন কেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল। বরিশাল-৫ আসনের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম সকাল সাড়ে আটটায় রূপাতলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন। তিনি বলেন, ভোটের পরিবেশ ভালো, তবে অতীতের কারচুপির শঙ্কা এখনো থেকে গেছে। একই সময়ে চৈতন্য স্কুল কেন্দ্রে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট ও সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তী ভোট দেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের সংগ্রামের পর এবার ভোটের মাধ্যমে দেশের প্রচলিত লুটেরা রাজনীতির অবসান হবে। কিছু কেন্দ্রে তাঁদের পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে বেগ পেতে হয়েছে।
রাজবাড়ী : রাজবাড়ীতে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। সকাল থেকে জেলার প্রতিটি কেন্দ্রের সামনে প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের উল্লাস দেখা গেছে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রের মাঠে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে শুরু করেছেন ভোটাররা। তবে সকালের দিকে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল বেশি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন নির্বাচন-সংশ্লিষ্টরা। রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা সুলতানা আক্তার বলেন, নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ফেনী : সারা দেশের ন্যায় একযোগে ফেনীতেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

উৎসবমুখর ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসন সার্বিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ঝালকাঠি : উৎসবমুখর পরিবেশে ঝালকাঠির দুই সংসদীয় আসনে সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়েছে।শহরের ঝালকাঠি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, ঝালকাঠি সরকারি কলেজ এবং পৌর আদর্শ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গেছে। সকাল থেকেই নারী-পুরুষ ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। ভোটকে ঘিরে জেলায় জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
২৩৭টি কেন্দ্রেই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব ও বিজিবিসহ মোট ৪ হাজার ৫৭৯ জন সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী টহল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত রয়েছে। ঝালকাঠির রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ও সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।









