ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি) ক্যাম্পাসে শেষ হয়েছে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ ডিবেটিং কাউন্সিলের (বিডিসি) নারীকেন্দ্রিক বিতর্ক ও সৃজনশীল প্রতিযোগিতা ‘‌শেভোল্যুশন ২০২৬’। আজ রোববার রাজধানীর আইইউবি ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়ামে এ বিতর্ক প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত এবারের প্রতিযোগিতায় উন্মুক্ত শ্রেণীতে চ্যাম্পিয়ন হয় ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ‘এমএলআইএস ১’ এবং রানারআপ হয় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ‘ব্র্যাক উইডো’। নবিশ বিতর্ক শ্রেণীতে চ্যাম্পিয়ন হয় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ‘ভিডিসি ৩’ এবং রানারআপ হয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ‘এনএসইউ এফ’।

ইন্টার-ক্লাব ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি এ বিতর্কের পাশাপাশি এ আয়োজনে পাবলিক স্পিকিং, স্ল্যাম পোয়েট্রি, গল্প লেখা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাও ছিল। পাবলিক স্পিকিংয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় স্কলাস্টিকা স্কুলের আনিকা ইসলাম, রানারআপ ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির তাসনিম আকরাম নওশিন। স্ল্যাম পোয়েট্রিতে চ্যাম্পিয়ন হয় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির কিশোয়ার তাহিয়া মাজুমদার আভা, রানারআপ আইইউবির নুসাইবা নাফিসা। গল্প লেখা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সাহিরা সামিন এবং চিত্রাঙ্কনে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আতিকা তাবাসসুম।

প্রতিযোগিতায় স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট ৩২টি প্রতিষ্ঠানের ৩৬টি দল অংশ নেয়। এ আয়োজনের প্রতিযোগী, আয়োজক ও বিচারক সবাই ছিলেন নারী। বিচারক প্যানেলে সিঙ্গাপুরের একজন আন্তর্জাতিক বিচারকও ছিলেন।

সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইইউবি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান দিদার এ হোসেইন। তিনি বলেন, সমাজে যেকোনো পরিবর্তন আনতে হলে আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। কেবল নিয়ম-কানুন বা আইন দিয়ে কিছুই হবে না; পরিবর্তন আসতে হবে নিজের চিন্তা থেকে। আমরা নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কথা বলছি, 'হিয়ার হার রোর' (নারীর গর্জন শুনো) শুনছি। কিন্তু গর্জন করার করার একমাত্র উপায় হলো জ্ঞান অর্জন করা। সেটিই ক্ষমতার মূল উৎস। জ্ঞান থাকলে নারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্ষমতা এবং আর্থিক স্বাধীনতা পাবে।

নারীরা শিক্ষাক্ষেত্রে ভালো ফল করলেও কর্মজীবনে উচ্চপদে কম নারী দেখা যায় কেন, সে প্রশ্ন করেন আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ম. তামিম। তিনি বলেন, পাবলিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও মেয়েরা অনেক ভালো করছে। কিন্তু সমাজের নেতৃত্বে তারা এগিয়ে নেই। নারীরা একাডেমিক ক্ষেত্রে খুব ভালো ফল করছে, অথচ দেশের শীর্ষস্থানীয় নির্বাহী বা উচ্চপদগুলোকে নারীর সংখ্যা খুবই কম। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের মধ্যেও নারীর সংখ্যা পুরুষদের তুলনায় বেশি নয়। এমনটা কেন হচ্ছে, যে মেধাবী মেয়েরা নিজেদের শ্রেণিতে শীর্ষস্থান অর্জন করে, তাদের কী হয় পরবর্তীতে? এ থেকে উত্তরণে নারীদেরকেই কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকতে হবে এবং এ দৃঢ়তা তাদেরকে একেবারে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত ধরে রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মাঝে আরো কথা বলেন আইইউবির ট্রাস্টি মো. তানভীর মাদার বলেন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. ড্যানিয়েল ডব্লিউ লুন্ড। এছাড়া আরো বক্তব্য দেন আইইউবির অফিস অব অ্যাডমিশনস, ফাইন্যান্সিয়াল এইড অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসের পরিচালক লিমা চৌধুরী ও উপপরিচালক প্রিয়াঙ্কা দে এবং ডিভিশন অব স্টুডেন্ট অ্যাক্টিভিটিজের প্রধান আতিফ এম সাফি প্রমুখ।