সাতক্ষীরার খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধের ২০০ ফুট এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা গিয়েছে। এতে শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের সুন্দরবন লাগোয় দুর্গাবাটি, পূর্ব দুর্গাবাটি, ভামিয়া, পোড়াকাটলা, আড়পাঙ্গাশিয়াসহ ৯টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া জোয়ারের পানির চাপে সাতক্ষীরার কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধের একাধিক স্থানেও ফাটল দেখা গিয়েছে। এতে যে কোনো সময় বাঁধ ভেঙে আরো বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন উপকূলের মানুষ। ভেসে গেছে শতাধিক চিংড়ি ঘের। লোনা পানিতে তলিয়ে গেছে অসংখ্য সুপেয় পানির পুকুর ও জলাধার।
ভাঙন কবলিত অংশের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য নীলকান্ত রপ্তান জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে হঠাৎ বিকট শব্দে স্থানীয় সাইক্লোন শেল্টারের পুর্বপ্রান্তের উপকূল রক্ষা বাঁধের অন্তত ২০০ ফুট এলাকা জুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরপর রাতের জোয়ারে প্লাবিত হয় গ্রামগুলো। স্থানীয়দের দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের শ্যামনগরের ৫ নং ফোল্ডারের উক্ত অংশের বাঁধ দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। তবে শুক্রবার সকাল থেকে বাঁশ পাইলিং দিয়ে মাটি ফেলে রিং বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দুর্গাবাটির বিভিন্ন অংশে কোটি কোটি টাকার কাজ করা হলেও ভাঙনকৃত অংশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাটির কোনো কাজ করা হয়নি। এছাড়া প্রভাবশালীরা পাশের নদী হতে কোটি কোটি ঘনফুট বালু উত্তোলন করায় চর দেবে গিয়েছে। কিন্ত সংশ্লিষ্ট কেউ তদারকি করেননি।
বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী নজরুল ইসলাম জানান, স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে রিং বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। তবে দুপুরের জোয়ারে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। জোয়ার নামতে নামতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। সন্ধ্যায় কাজ করা কঠিন হবে। তিনি অভিযোগ করেন পাশের খোলপেটুয়া নদী থেকে অবৈধভাবে প্রভাবশালীরা বালু উত্তোলন করায় চর দেবে বাঁধে ভাঙন দেখা গিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের শ্যামনগর অঞ্চলের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, খোলপেটুয়া নদীর চর দেবে যাওয়ার কারণে ৫০ মিটার বাঁধ ধ্বসে পড়েছে। আমরা ১৬০ মিটার রিংবাঁধ দেব। সকাল থেকে বাঁশ পাইলিংয়ের কাজ শুরু হয়েছিল। তবে জোয়ার আসায় কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। পুরো দিনই জোয়ার থাকায় কাজ করার সুযোগ থাকছে না। রিংবাঁধ নির্মাণের জন্য ১৫ হাজার জিওব্যাগ ও ১লাখ সিনথেটিক ব্যাগ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই কর্মকর্তা।
এব্যাপারে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আকতার হোসেন জানান, খোলপেটুয়া নদীর ভেঙে যাওয়া বাঁধটি দ্রুত মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষিক মনিটারিং করা হচ্ছে।









