আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ পুনঃগঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকটির পর্ষদে নতুন করে ১৪ জন পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে পুরনো ও মূল উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

আজ বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নিয়োগ দেয়া ১৪ উদ্যোক্তার মধ্যে পাঁচজনই চট্টগ্রামভিত্তিক কেডিএস গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা হলেন খলিলুর রহমান, সেলিম রহমান, কেডিএস গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রতিনিধি মাহবুব আহমেদ, কেডিএস টেক্সটাইলস মিলস লিমিটেডের প্রতিনিধি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং কে ওয়াই স্টিল মিলস লিমিটেডের প্রতিনিধি মোহাম্মদ শরিফ উদ্দিন তসলিম।

পরিচালক হিসাবে নিয়োগ পাওয়া অন্যরা হলেন, বদিউর রহমান, আহামেদুল হক, রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইমাদুর রহমান, নাজমুল আহসান খালেদ, আনোয়ার হোসাইন, মোহাম্মদ আবদুস সালাম, লিয়াকত আলী চৌধুরী ও এনায়েত উল্লা। এসব পরিচালকদের অনেকে ইতোপূর্বে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কিংবা পরিচালক ছিলেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়, খলিলুর রহমান প্রগতি ইন্সুরেন্স লিমিটেড ও প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, এ দুটি বীমা কোম্পনির পর্ষদ থেকে পদত্যাগ করার শর্তে তিনি আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদে অর্ন্তভূক্ত হবেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যূত্থান পূর্ববর্তী সময়ে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন আব্দুস সামাদ লাবু। তিনি এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদের ভাই। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অন্য ১৬টি বেসরকারি ব্যাংকের মতো এ ব্যাংকের পর্ষদও ভেঙে দেয়া হয়। ওই সময় লংকা বাংলা ফাইন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাজা শাহরিয়ারকে স্বতন্ত্র পরিচালক ও পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসাবে শাহীন উল ইসলাম, আব্দুল ওয়াদুদ, এম আবু ইউসুফ ও মোহাম্মদ আশরাফুল হাসানকে নিয়োগ দেয়া হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে জানান, ব্যাংকটির পর্ষদে থাকা পাঁচজন পরিচালক বহাল থাকবেন। নতুন করে পর্ষদে ১৪ জন পরিচালক যোগ দিবেন। পর্ষদ চাইলে নতুন চেয়ার‍ম্যান নির্বাচিত করতে পারবেন।