৯৫ বছর বয়সী শফিকুর রহমান। চট্টগ্রামের হাটহাজারীর বড়দিঘীর পাড় এলাকার বাসিন্দা। বয়সের ভারে ন্যুব্জ তিনি। তবুও ভোট দিতে এলেন কেন্দ্রে। জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিয়ে তিনি বলেন, গত ১৭ বছর জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি। এবার ভোট দেয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই ভোট দিতে এসেছি। অনেক বয়স হয়ে গেছে, আগামীবার ভোট পর্যন্ত বেঁচে থাকবো কি-না জানি না। তাই এবার ভোট দিতে এসেছি।’ শুধু শফিকুর রহমানই নয়, বয়স বা শারীরিক সীমাবদ্ধতা কিংবা পেছনে ফেলে ভোট দিয়ে উচ্ছ্বসিত বয়স্ক ভোটাররা।

শফিকুর রহমান
তাদের মধ্যে ঢাকা-৯ আসনের মাদারটেক আব্দুল আজিজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ৮০ বছর বয়সী সাবেক স্কুল শিক্ষক ঈমাম নুরুজ্জামানের সঙ্গে কথা হয় বণিক বার্তার। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় এই স্কুলে ধর্ম বিষয়ে পাঠদান করেছেন। নাতির হাত ধরে ভোট দিতে এসেছি।

নুরুজ্জামান
নুরুজ্জামান বলেন, একসময় এই স্কুলে পড়াইতাম। দীর্ঘ দিন ভোট দিতে পারি নাই। আজ ভোট দিতে এসে খুবই ভালো লাগছে। সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।
কথা হয় ঢাকা-১৭ আসনে ৭৫ বছর বয়সী আবুল বাশারের সঙ্গে। থাকেন ইসিবি চত্বরে। কয়েক বছর আগে ব্রেইন স্ট্রোকে তাঁর এক পাশ প্যারালাইজড হয়ে যায়। এক পা আর এক হাতের ওপর ভর করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভোট দিতে এলেন।

আবুল বাশার
কেন্দ্র থেকে বের হয়ে তিনি বলেন, ‘ভোট দেওয়া নাগরিক দায়িত্ব। ঠিকমতো হাঁটতে পারি না। কিন্তু অনেক বছর পর একটা সুযোগ এল। এমন সুযোগ আর হয়তো পাব না। বয়স তো কম হয়নি, আগামীবার ভোট পর্যন্ত বেঁচে থাকব কি না তাও জানি না।’
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বানীগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট দিলেন শতবর্ষী ধর্মরাজ দে। জাতীয় পরিচয় পত্র অনুযায়ী ধর্মরাজ দে'র বয়স ১১৫ বছর। ধর্মরাজ দে'র বাবার নাম ধনরাজ দে। চার সন্তানের জনক ধর্মরাজের তিন সন্তান ও তার স্ত্রী মারা গেছেন বেশ কয়েক বছর আগেই। পঞ্চাশ বছর বয়সী এক ছেলে দিন মজুরের কাজ করেন। ছেলের সংসারেই থাকেন ধর্মরাজ।

ধর্মরাজ দে'
ধর্মরাজকে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসা তার আত্মীয় করুণ দে বণিক বার্তাকে বলেন, ধর্মরাজ দের বয়স প্রায় ১১৫ বছর। কর্মজীবনে তিনি গাছ কাটা সহ বিভিন্ন দিন মজুরের কাজ করতেন। তার বাড়ি বানীগ্রামের ৫ নাম্বার ওয়ার্ডে। কোন রকমে কথা বলতে পারলেও কানে খুবই কম শোনেন। তবে কারোর সহায়তা ছাড়াই চলাচল করতে পারেন তিনি।
ঢাকা–৪ আসনের ভোটকেন্দ্রে এসে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন ৯৭ বছর বয়সী আবু বক্কর। সকালে ঢাকা–৪ আসনের ভোটকেন্দ্রে এসে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন তিনি। বয়সের ভার থাকলেও ভোট দিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন এই প্রবীণ ভোটার। কেন্দ্র থেকে বের হয়ে তিনি বলেন, ‘ভোট দেওয়া নাগরিক দায়িত্ব। যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন ভোট দিয়ে যেতে চাই।’
শরীরের শক্তি ফুরিয়ে এসেছে। পা দুটো আর আগের মতো চলে না, চোখেও দেখেন ঝাপসা। তবুও গণতন্ত্রের ডাকে সাড়া দিতে থেমে থাকেননি ৮৫ বছর বয়সী উম্মুল ওয়ারা বেগম। সকালে ঢাকা- ৮ আসনের রাজধানীর মির্জা আব্বাস মহিলা ডিগ্রি কলেজের নারী কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন তিনি।

উম্মুল ওয়ারা বেগম
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে উম্মুল ওয়ারা বলেন, ‘এখন আর শরীরে কুলায় না। হাঁটতে পারি না বাবা। চোখেও দেখতে পাই না ঠিকমতো। কিন্তু এতদিন পর ভোট হচ্ছে তাই এলাম। অনেকদিন তো ভোট দেয়া হয় না।’
কুড়িগ্রামে অদম্য ইচ্ছা দমাতে পারেনি শতবর্ষী আছিমন বেওয়াকে। হাঁটতে না পারলেও নাতির কোলে চড়ে কেন্দ্রে হাজির হয়ে নিজের ভোটটি নিজেই দিয়েছেন তিনি। দুপুর ১২টার দিকে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা মডেল কলেজ কেন্দ্রে এমন আবেগঘন দৃশ্যের দেখা মেলে। নাতি এরশাদুল হক তার নানি আছিমন বেওয়াকে কোলে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেন।

আছিমন বেওয়া
ভোট দেয়ার পর আছিমন বেওয়া বলেন, ‘অনেক বয়স হইছে বাবা, চলতে পারি না। আজ নাতির কোলে চড়ে আসছি ভোট দিতে। খুব ভালো লাগছে। আগামীতে আর ভোট দিতে পারব কি না, আল্লাহই জানে।’










