বরিশালে বোরো ধানের খেতে ইঁদুরের উপদ্রবে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। বরিশালের ১০ উপজেলার সর্বত্র নয়নাভিরাম সবুজ বোরো খেত দেখে যখন সোনালি ফসলের স্বপ্ন দেখছেন কৃষক, তখনই ইঁদুর কেটে তছনছ করে দিচ্ছে সেই স্বপ্ন। 

কৃষক জানান, বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকাসহ জেলার ১০ উপজেলায় বোরো খেতে ইঁদুরের আক্রমণ বেড়েছে। ফসলের খেতে ইঁদুর নিধনে নানা  প্রক্রিয়া অবলম্বন করেও নিস্তার মিলছে না। 

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বরিশালের হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ, বাবুগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ, উজিরপুর, আগৈলঝাড়া, বানারীপাড়া, মুলাদী, বরিশাল সদর ও গৌরনদী—এ ১০ উপজেলায় ৫৩ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৫৭ হাজার ৯১৫ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৪ হাজার ৫১৫ হেক্টর বেশি।

এর মধ্যে বরিশাল সদর উপজেলায় আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৪৭৭ হেক্টর, বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫৯০ হেক্টর, বাবুগঞ্জে ৩ হাজার ২০১ হেক্টর, উজিরপুরে ১৩ হাজার ৫৬০ হেক্টর, বাকেরগঞ্জে ৪ হাজার ৫০ হেক্টর, গৌরনদীতে ৬ হাজার ১৫০ হেক্টর, আগৈলঝাড়ায় ৯ হাজার ৪০৫ হেক্টর, মুলাদীতে ২ হাজার ৪১ হেক্টর, হিজলায় ৩ হাজার ৫৩০ হেক্টর, মেহেন্দীগঞ্জে ৪ হাজার ৩৬০ হেক্টর, বানারীপাড়া উপজেলায় ৫ হাজার ৭৩২ হেক্টর জমিতে চলতি মৌসুমে বোরো ধান আবাদ হয়েছে।

সরেজমিন জেলার গৌরনদীর গেরাকুল, মাহিলাড়া, হাপানিয়া ও আশোকাঠি, হিজলার মেমানিয়া, কাউরিয়া, মাসকাটা, বড়জালিয়া, মেহেন্দীগঞ্জের আন্ধারমানিক, আজিমপুর, লতার কাদিরাবাদ, সন্তেশপুর এলাকার কৃষক জানান, বোরো খেতে ইঁদুরের আক্রমণ বেড়েছে। সবুজ ধান গাছের গোড়া ইঁদুর কেটে দিচ্ছে। ইঁদুরের আক্রমণ ঠেকাতে ফাঁদ, ওষুধ কিংবা বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করেও উপদ্রব থেকে রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের অভিযোগ, ইঁদুর নিধনে মাঠপর্যায়ে স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে না।

আজিমপুরের কৃষক মাহবুব আলম খোকন জানান, এভাবে ইঁদুরের আক্রমণ চলতে থাকলে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। তাই কৃষি বিভাগ থেকে ইঁদুর নিধনে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বরিশালের অতিরিক্ত উপপরিচালক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রতিটি ইউনিয়নে ইঁদুর নিধনে কৃষকদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া কৃষকদের মধ্যে সচেতনতায় বিভিন্নভাবে কাজ করা হচ্ছে।

তবে কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কোনো মিল পাওয়া যায়নি। কৃষক অভিযোগ করেন, পরামর্শ দূরের কথা, এখন পর্যন্ত কোনো কৃষি কর্মকর্তাকে মাঠপর্যায়ে পাওয়া যায়নি।