দেশে এলপিজি ব্যবহারের অবকাঠামো নেই বলে দাবি করেছেন ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী। তিনি বলেন, উন্নত দেশে পাইপলাইনের মাধ্যমে এলপিজি সরবরাহ করা হয়। আমরা এখনো সিলিন্ডারের মাধ্যমে এলপিজি সরবরাহ করছি। অবকাঠামো তৈরি করা হলে এলপিজির চাহিদা আরো বাড়বে। এক্ষেত্রে প্রাধিকারভিত্তিতে ছোট ছোট শহরগুলোকে পাইপলাইন সরবরাহের আওতায় নিয়ে আসা যেতে পারে।
শনিবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত এক পলিসি কনক্লেভে এ কথা বলেন তিনি। 'বাংলাদেশে এলপিজি: অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তা' শীর্ষক এ কনক্লেভের আয়োজন করেছে দৈনিক বণিক বার্তা।
অনুষ্ঠানে আজম জে চৌধুরী বলেন, বর্তমানে বিরাট প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে এলপিজির ব্যবসা টিকে আছে। অনেক অপারেটর লোকসান গুনেও এলপিজি বিক্রি করছে। এভাবে হয়তো একসময় এলপিজি ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। এক্ষেত্রে সরকার ও নিয়ন্ত্রক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও অংশীজন- সবার অংশগ্রহণ থাকতে হবে।
ব্যবসায়ীদের অনেকে প্রতিপক্ষ ভাবে দাবি করে তিনি বলেন, এলপিজি আমদানির প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমাদের অনেকেই জানেন না। আমদানি থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। বন্দরে জাহাজ আসার পর ২০-২৫ দিন অপেক্ষা করতে হয় ডিসচার্জ করতে। এখানেই দাম অনেক বেড়ে যায়। বাজারে আমাদেরকে প্রতিপক্ষ মনে করা হয়। অথচ এলপিজির দাম আমরা নির্ধারণ করি না। সরকার আমাদেরকে ৭ শতাংশ মুনাফা দিলে আমরা এলপিজি আমদানি করে তাদের হাতে দিয়ে দেব। ব্যবসায়ীদের দেশপ্রেম কোনো অংশেই কম নয়। তারা দেশের জনগণের জন্যই নিজের পকেটের টাকা বিনিয়োগ করেন।
এলপিজি সিলিন্ডার ফিলিং স্টেশনে পুনঃভর্তি করা হয় দাবি করে তিনি বলেন, সিলিন্ডার যদি ফিলিং স্টেশনেই পুনঃভর্তি করা হয়, তাহলে তো এলপিজি অপারেটরের কোনো দরকার হবে না। এ বিষয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে একাধিকবার চিঠি দিলেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
দেশের এলপিজি খাতকে ‘এনএসপিজি’ নামে সম্বোধন করে তিনি বলেন, এলপিজি খাত এনএসপিজির মাধ্যমে চলছে। এখানে নো সাবসিডি, নো পেট্রোনাইজেশন, নো গভর্নেন্স (ভর্তুকি, উৎসাহ ও সুশাসন নেই)। যার যেভাবে ইচ্ছে-খুশি, সেভাবেই চলছে। এর কারণ হচ্ছে এখানকার কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয় না।
এলপিজির লাইসেন্স নিতে গেলে ২০ ধরনের অনুমোদনপত্র ও কয়েক কোটি টাকা ফি দিতে হয় বলেও জানান তিনি।










