নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার রামারবাগ এলাকায় একটি তিন তলা ভবনের সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে শিশুসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরো দুজন আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর ) সকাল সাড়ে ১০টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত কবরেছেন ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেন। নিহতরা হলেন- জিসান (৯) ও রাজ্জাক (৩২)। এছাড়া আহত হয়েছে শাকিব (১০) ও সাঈদা (৩৫)। আহতদের বর্তমানে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।

ফতুল্লার ওসি আসলাম হোসনে জানান, ফতুল্লার রামারবাগ এলাকার মৃত হাসান খানের মালিকানাধীন তিনতলা বাড়িতে ভাড়াটিয়ারা বিজয় দিবসের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি চালে যায়। তবে পাশের বাড়ির একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন ভাড়াটিয়া রাজ্জাক। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিকট শব্দে সেফটি ট্যাঙ্কি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে গুরুতর আহত সিজান, রাজ্জাকসহ অন্যদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই বাড়ির পাশ দিয়ে একটি গলি সড়ক ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের দেয়াল ঘেষে মেইন রোডে গিয়ে মিলেছে। সেই গলি সড়ক দিয়ে কয়েকজন পথচারী যাচ্ছিলেন মেইন রোডের দিকে। হঠাৎ সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে ওই বাড়ির পাশের রাস্তায় খেলাধুলা করার সময় শিশু জিসান ও বাড়িটির একটি কক্ষে অবস্থান কালে রাজ্জাক এর মৃত্যু হয়।

বাড়িওয়ালা সাইদের স্ত্রী আখি আক্তার জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিকট শব্দে বাড়ির নিচ তলার ডান পাশের একটি রুমের নিচে সেপটিক ট্যাংকে গ্যাস জমে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই রুমে  ব্যাচেলর চারজন পুরুষ ভাড়াটিয়া থাকতেন। তারা বিজয় দিবসে গ্রামের বাড়ি গিয়েছেন তাই রুমে কেউ ছিল না।

নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাজমুল হোসেন বিপু জানান, বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে ৪ জন চিকিৎসা নিতে আসে। এর মধ্যে একটি শিশু (জিসান ৯ বছর) পথেই মারা গেছে। আরেক ব্যক্তি (রাজ্জাক বয়স ৩২) জীবিতই আনা হয়েছিল, কিন্তু অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। উনি হাসপাতালে চিকিৎসা অবস্থায় মারা গেছে। শিশু সাকিব ও সাঈদার অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। 

এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, বিস্ফোরণের কারণ খতিয়ে দেখতে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।