আবদুল আউয়াল মিন্টু। ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে। এবারের নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। নির্বাচনের পরিবেশ ও এ নিয়ে প্রত্যাশা সম্পর্কে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নুর উল্লাহ কায়সার

আপনার আসনে এবারের নির্বাচনটি কেমন হতে পারে?

এখানে প্রচুর তরুণ ভোটার আছে। আবার পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি। মাঠে নামার পর থেকেই ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের উচ্ছ্বাস দেখতে পাচ্ছি, যা দিন দিন বাড়ছে। আমি মনে করি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চসংখ্যক ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

ভোটারদের সাড়া কেমন পাচ্ছেন? আপনার প্রত্যাশা কী?

ঐতিহাসিকভাবেই আমার পরিবার এখানকার জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমার পিতা একটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। দুইবার দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। আমার ছোট ভাই দাগনভূঞা পৌরসভার মেয়র ছিলেন। আমরা দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে মানুষের সঙ্গে একযোগে কাজ করি। এটা আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্য থেকেই এবার মানুষ ভোটের মাঠে আমাকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছে। আর মানুষ সবসময় আশাবাদী। আমিও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। আমার বিশ্বাস, মানুষের সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক; নারী, তরুণ ও বয়স্ক ভোটাররা আমাকেই ভোট দেবেন।

বিজয়ী হলে এলাকার জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কী কী পরিকল্পনা নেবেন?

আমাদের দুটি উপজেলা। এখানে নদীভাঙন ও সেচ ব্যবস্থা একটি বড় ইস্যু। এসব ইস্যুর সমাধানে মুছাপুর রেগুলেটরটি দ্রুত নির্মাণের ব্যবস্থা করতে হবে। এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও যোগাযোগ খাতের উন্নয়নে কাজ করব।

ফেনীর অর্থনৈতিক উন্নয়নে আপনার পরিকল্পনা কী?

অর্থনৈতিক উন্নয়নটা জাতীয় ব্যাপার। মিরসরাই ইকোনমিক জোনের একটি অংশ আমাদের সোনাগাজীতে রয়েছে। এটি আরেকটু প্রশস্ত করতে পারলে সেখানে বিনিয়োগের নানা ক্ষেত্র তৈরি হবে। তবে এসবের জন্য রাজনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশের স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। আমার কাজ ওই পরিবেশ নিশ্চিত করা। এর বাইরে এখানে আমাদের যে মিলটি বন্ধ রয়েছে, বিদেশী বিনিয়োগ এনে সেটি চালু করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা আছে।

নির্বাচনে প্রশাসনের ভূমিকা কেমন বলে মনে করেন?

যদি ভোটাররা ভোট দিতে যান তাহলে প্রশাসন কী করে না করে এগুলো নিয়ে আমি তেমন কিছু চিন্তা করি না। আমি তো প্রশাসননির্ভর নির্বাচন করছি না। আমি জনগণনির্ভর নির্বাচন করছি। আমার প্রধান কাজ হলো জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা, যাতে তারা ভোট কেন্দ্রে যান। ভোট কেন্দ্রে গেলে তারা যাকে ইচ্ছা ভোট দেবেন। অতীতের মতো যাতে উল্টাপাল্টা ভোট গণনা না হয় এবং ফলাফলটাও উল্টাপাল্টা ঘোষণা না করা হয়।

আপনার দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে যে আলোচনা আছে সে বিষয়ে বলুন।

আমি দ্বৈত নাগরিক ছিলাম। দেশের আইন ও সংবিধান অনুযায়ী সেটা পরিত্যাগ করে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। এসব বিষয় নিয়ে যারা বলে তাদের বলতে দিন। কেউ যদি আমার বিষয়ে জানতে চায়, আমি কতটুকু বাংলাদেশী। এটা তো আসলে দেশের জন্য লজ্জাজনক।