এছাড়া রাজধানী ঢাকায় দুজনসহ নেত্রকোনা, নওগাঁ ও কুমিল্লায় আরো পাঁচজন নিহত হয়েছেন। গতকাল ও আগের দিন রাতে এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—
নাটোর: জেলার লালপুরে ট্রাকের ধাক্কায় ইজিবাইকের তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো অন্তত চারজন। গুরুতর অবস্থায় তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সকালে লালপুর-ঈশ্বরদী আঞ্চলিক মহাসড়কের দক্ষিণ লালপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, লালপুর থেকে ঈশ্বরদীগামী একটি ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অন্য লেনে চলে যায়। এ সময় নবীনগর এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে ইজিবাইকের ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। চালকসহ আরো পাঁচজন আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো দুজনের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন জাহিদুল ইসলাম, মনিরুল ও বাবুল। তারা তিনজনই উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে বলে জানান লালপুর থানার ওসি মজিবর রহমান।
যশোর: প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বাবা-ছেলে ও নাতনি নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন প্রাইভেট কারে থাকা আরো তিনজন। সোমবার রাত আড়াইটার দিকে যশোর-মাগুরা সড়কের গাইদঘাট নামক স্থানে দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন মণিরামপুর বাজারের ইন্টারনেট ব্যবসায়ী মাহমুদ হাসান জাকারিয়া জনি (৪৩), তার বাবা মণিরামপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর সাবেক পরিচালক আব্দুল মজিদ সরদার (৭৫) ও জনির চার বছরের মেয়ে শেহেরিশ।
আহতরা হলেন জনির মা মনোয়ারা বেগম (৬০), স্ত্রী সাবরিনা জাহান (৩০) ও ছেলে সামিন আলমাস (১০)। বারোবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, প্রাইভেট কারটি যশোরের দিকে যাচ্ছিল। রাত আড়াইটার দিকে গাইদঘাট এলাকায় প্রাইভেট কারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে বটগাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই চালক জনি ও তার বাবা আব্দুল মজিদ মারা যান। আহত চারজনকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে শিশু শেহেরিশের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত জনির আইটি ফার্মের এক্সপার্ট রিয়াদ হোসেন বলেন, ‘জনি সোমবার পরিবারের সবাইকে নিয়ে প্রাইভেট কারে চুয়াডাঙ্গায় নানার বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলেন। রাতে সেখান থেকে ফেরার পথে প্রাইভেট কারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জনি, তার বাবা ও মেয়েটি মারা গেছে।’
ঢাকা: রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক কিশোরীসহ দুজন নিহত হয়েছেন। সোমবার রাতে পশ্চিম রামপুরা ডিআইটি রোড ও গাবতলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন পশ্চিম রামপুরার অনিকা তাহসিন (১২) ও গাবতলীর মো. জীবন (৪০)। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক।
পুলিশ জানায়, পশ্চিম রামপুরা ডিআইটি রোডের পলাশবাগ মোড়ে রাস্তা পার হচ্ছিলে ১২ বছর বয়সী অনিকা তাহসিন। এ সময় একটি প্রাইভেট কার ইউটার্ন নিতে গিয়ে তাকে ধাক্কা দেয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। আহত কিশোরীকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানে তার মৃত্যু হয়। অনিকা তাহসিন পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলার প্রত্যাশী গ্রামের মো. সিদ্দিকুর রহমানের মেয়ে। সে পূর্ব রামপুরার ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকত।
অন্যদিকে রাতে গাবতলী টার্মিনাল এলাকায় রাস্তা পার হচ্ছিলেন পথচারী মো. জীবন (৪০)। এ সময় একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন। প্রতিবেশী সাজু তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে ঢামেক হাসপাতালে নেয়ার পর রাত ১২টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মো. জীবন নীলফামারী সদর উপজেলার মো. আব্দুল গফুরের ছেলে। বর্তমানে মিরপুরের কাউন্দিয়া এলাকায় বসবাস করতেন।
নেত্রকোনা: পূর্বধলায় প্রাইভেট কারের ধাক্কায় আশিক মিয়া (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। গতকাল সকাল পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার পূর্বধলা সদর ইউনিয়নের ছোট ইলাশপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আশিক মিয়া ছোট ইলাশপুর গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে।
নওগাঁ: জেলার নিয়ামতপুরে ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও ভটভটির সংঘর্ষে নূরেফা বেগম (৪৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শিশুসহ আহত হয়েছেন আরো অন্তত পাঁচজন। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গতকাল সকাল ১০টার দিকে উপজেলার নিয়ামতপুর-আড্ডা আঞ্চলিক সড়কের জিনারপুর মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নূরেফা বেগম উপজেলার পাড়ইল ইউনিয়নের উমরইল গ্রামের মৃত হারুন অর রশিদের স্ত্রী।
কুমিল্লা: লাকসামে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মো. মহসিন (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। সোমবার রাত ৮টার দিকে লাকসাম পৌরসভার পেয়ারাপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মহসিন পেয়ারাপুর এলাকার রিকশাচালক মো. দুদু মিয়ার ছেলে। মোটরসাইকেল চালানো শিখতে গিয়ে এ দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।










