‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’-এর সময়সূচি পরিবর্তনসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন দেশের সৃজনশীল প্রকাশকরা। ঈদুল ফিতরের পর বইমেলা আয়োজনের দাবি জানিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বইমেলার তারিখ ও সময় নির্ধারণ নিয়ে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রমজান মাসে বইমেলা আয়োজন করা হলে তা প্রকাশনা শিল্পের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে।

আসন্ন নির্বাচন, প্রেস ও বাইন্ডিং খাতে চাপ, কাগজের তীব্র সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে অল্প সময়ে মানসম্মত বই ছাপানো কঠিন হয়ে পড়বে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। এ অবস্থায় প্রকাশকরা সরকারের কাছে চার দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলো হলো ঈদুল ফিতরের পর ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ আয়োজন; বইমেলায় স্টল ও প্যাভিলিয়ন ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফ; শিক্ষার্থী ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বই কেনায় সরকারি প্রণোদনা বা ভাউচার চালু; সরকারি বই ক্রয় নীতির সংস্কার করে প্রতিটি মানসম্মত বইয়ের ন্যূনতম ৩০০ কপি ক্রয়ের ব্যবস্থা।

স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন প্রকাশক মেছবাহউদ্দীন আহমদ, এ কে নাসির আহমেদ, মাজহারুল ইসলাম, মনিরুল হক, সৈয়দ জাকির হোসাইন, মাহরুখ মহিউদ্দীন ও মাহাবুব রহমান।

গত ২৭ জানুয়ারি পাঠানো স্মারকলিপিতে প্রকাশকরা উল্লেখ করেন, গত দেড় বছরে দেশে বইয়ের বিক্রি ৬০ শতাংশের বেশি কমে গেছে। সর্বশেষ বইমেলায়ও বহু প্রকাশক তাদের বিনিয়োগ তুলতে পারেননি। অথচ বইমেলার পুরো আয়োজনের আর্থিক ঝুঁকি এককভাবে প্রকাশকরাই বহন করেন। লেখক ও পাঠকের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে প্রকাশকদের ভূমিকা উপেক্ষা করলে তা দেশের সামগ্রিক জ্ঞান ও সৃজনশীলতা চর্চার ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলবে বলে সতর্ক করেন তারা।