বরিশাল-খুলনা মহাসড়কের ঝালকাঠির বাসণ্ডা নদীর ওপর আশির দশকে নির্মাণ করা হয় ১২০ মিটার দৈর্ঘ্যের বেইলি সেতু। দীর্ঘদিনে নাজুক সেতুটির ওপরের প্লেটেই ৫৮৮টি তালি দেয়া হয়েছে। বছর পাঁচেক আগে ‘ঝুঁকিপূর্ণ সেতু’ ঘোষণাও করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। তবু নতুন করে নির্মাণ না হওয়ায় প্রতিদিন এর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে সব ধরনের যানবাহন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করলেও নতুন সেতু নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি সড়ক ও সেতু বিভাগ। বরং প্রতি বছর সেতু সংস্কারে ব্যয় করা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। গত পাঁচ বছরেই সেতুটি সংস্কারে ব্যয় হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা। স্থানীয়রা জানান, সেতুটি ভেঙে পড়লে ঝালকাঠি থেকে পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা ও যশোরের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে।

পিরোজপুর থেকে ভোলাগামী ট্রাকচালক ওবায়দুর রহমান বলেন, লোড গাড়ি নিয়ে ব্রিজে উঠলে বুকটা ধড়ফড় করতে থাহে, কুনসুম জানি ভাইঙ্গা পড়ি। বরিশাল থেকে খুলনাগামী ধানসিঁড়ি পরিবহনের বাসচালক ইদ্রিস হাওলাদার বলেন, ব্রিজে গাড়ি উঠলে দুলতে থাকে। নতুন ব্রিজ না হলে যেকোনো সময় এটা ভেঙে পড়বে।

এ রুটে নিয়মিত চলাচলকারী বাস ডলফিন পরিবহনের চালক মালেক হাওলাদার বলেন, রাতে ব্রিজ পার হওয়ার সময় যে শব্দ হয় তাতে মনে হয় গাড়ির চাকা থেকে টায়ার খুলে গেছে। যেকোনো মুহূর্তে সেতুটি ভেঙে ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে।

সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, টেন্ডার ছাড়া নিজস্ব তত্ত্বাবধানে বছরে তিনবার সেতুটি মেরামত করে সড়ক বিভাগ। প্রতিবার মেরামতে খরচ হয় ৬ লাখ টাকা। ঝালকাঠি সড়ক উপবিভাগের প্রকৌশলী হুমায়ুন কবিরের দেয়া হিসাব অনুযায়ী, সেতুটির কিছু প্লেট পরিবর্তন ও ঝালাইয়ের কাজে গত পাঁচ বছরে তাদের ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি টাকা। গাবখান টোলপ্লাজা থেকে জানা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন ৫০০-৭০০ যানবাহন চলাচল করে। বারবার মেরামত করা হলেও সেতুটি কয়েক দিনের মধ্যেই ফের যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। নাট-বল্টু খুলে পড়ার পাশাপাশি ফেটে যাচ্ছে প্লেট।

ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাবিল হাসান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বাসণ্ডা বেইলি সেতুটি কংক্রিট দিয়ে নির্মাণ করার জন্য ডিজাইন ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ডিপিপি বাস্তবায়ন হলে শিগগিরই এখানে নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে।

সওজের বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু হেনা মো. তারেক ইকবাল বলেন, ফলোআপ প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির জন্য ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালকের কাছে সম্ভাব্য সেতুর যে তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে তার মধ্যে বাসণ্ডা সেতুটি রয়েছে। অনুমোদন পেলেই নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে।