শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার লক্ষ্মণাবন্দ ইউনিয়নের বখতিয়ারঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এছাড়া জেলায় মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতে চারটি পয়েন্টে বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে সুরমা-কুশিয়ারা। এতে সিলেটে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে তিন পার্বত্য এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। খাগড়াছড়িতে অন্তত পাঁচটি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বান্দরবানে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় লামার মিরিঞ্জা পাহাড়সহ তিনটি পাহাড়ের আবাসিক হোটেল, অবকাশ যাপন কেন্দ্র গতকাল দুপুর থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আলীকদমে গাছ ভেঙে পড়ে জুমঘরে থাকা পাঁচ বছরের এক ম্রো শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর রাঙ্গামাটির কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। গতকাল রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের মঘাছড়িসহ বিভিন্ন স্থানে পাহাড় থেকে মাটি ধসে পড়েছে। পরে তা মেরামত করা হয়। তবে জুরাছড়ি ও কাউখালী উপজেলার দুটি অভ্যন্তরীণ সড়ক বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ওই সড়ক দুটোতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় সিডিএসপি বাঁধ ভেঙে ৬০০ একর মৎস্য প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর ফেনীতে মুহুরী নদীর পানি বাড়ায় আতঙ্কে আছে জেলার নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা।

সিলেট: গতকাল ভোরে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন প্রথমে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সকাল সাড়ে ৮টায় আরেকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন উপজেলার লক্ষ্মণাবন্দ ইউনিয়নের বখতিয়ারঘাট গ্রমের মৃত আসিদ আলীর ছেলে মো. রিয়াজ উদ্দিন (৫৫), তার দ্বিতীয় স্ত্রী রহিমা বেগম (৪০), মেয়ে সামিয়া (১৪) ও ছেলে আলী আব্বাস (৯)।

লক্ষ্মণাবন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খলকুর রহমান জানান, শনিবার রাতে একই পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। আনুমানিক রাত ২টার দিকে টিলা ধসে রিয়াজ উদ্দিনের বসতঘরের ওপরে পড়ে। এ সময় ঘুমন্ত অবস্থায় মাটির নিচে চাপা পড়েন রিয়াজ, তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও দুই সন্তান। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ ৪ ঘণ্টার চেষ্টায় মাটির নিচ থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মোল্লা বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রস্তুত শেষে তাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।’

গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়ছল মাহমুদ রিয়াদ বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মাটিচাপা পড়া চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে অক্ষত অবস্থায় আরো তিনজনকে উদ্ধার করা হয়। নিহতদের জানাজা বাদ আসর অনুষ্ঠিত হয়।’

চার পয়েন্টে বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে সুরমা-কুশিয়ারা: উজানের ঢলে পানি বেড়েছে সিলেটের নদ-নদীতে। সুরমা-কুশিয়ারার চারটি পয়েন্টে বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে পানি। গতকালও সিলেটে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেট কার্যালয়ের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন জানান, ২৪ ঘণ্টার হিসাবে ৪০৪ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত এ মৌসুমে সর্বোচ্চ। গতকাল সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ১৪ মিলিমিটার, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার ও দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ২ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে ।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেলা ৩টার প্রতিবেদন অনুযায়ী বেলা ৩টায় সুরমা নদী সিলেটের কানাইঘাট উপজেলা পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময়ে কুশিয়ারা নদী জকিগঞ্জ উপজেলার অমলসীদ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ দশমিক ৪৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। একই নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টেও বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে। বেলা ৩টায় ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর আগে দুপুরে এ পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এছাড়া কুশিয়ারা নদী বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা পয়েন্টে বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এখনো সুরমা নদী সিলেট নগরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ভারি বর্ষণের ফলে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে এরই মধ্যে গোয়াইনঘাট, জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকা, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার উপজেলার বিভিন্ন জায়গায়। গোয়াইনঘাটের নিম্নাঞ্চলের গ্রামীণ জনপদ ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, ‘ভারতে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। ফলে সীমান্তের নদ-নদী দিয়ে ঢল আসছে। সিলেটের প্রধান দুই নদী সুরমা ও কুশিয়ারার চারটি পয়েন্টে বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে পানি। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যার শঙ্কা রয়েছে।’

খাগড়াছড়ি: ভারি বর্ষণে খাগড়াছড়ি জেলার অন্তত পাঁচটি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে একটি বাড়ির আংশিক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ি ঢলে জেলার দীঘিনালা উপজেলার কিছু এলাকাসহ নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

খাগড়াছড়িতে শনিবার থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৯৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় বলে জানান দীঘিনালায় অবস্থিত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা সুভূতি চাকমা।

গতকাল ভোরে জেলা সদরের ২৬ কিলোমিটার দূরে মহালছড়ির ধুমনীঘাট এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে মহালছড়ির সঙ্গে জালিয়াপাড়ার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া জেলা সদরে রাজশাহী টিলা এলাকায় পাহাড় ধসে পড়ায় বন্ধ হয়ে গেছে খাগড়াছড়ির সঙ্গে ভুয়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ।

খাগড়াছড়ি জেলা সদরের আলুটিলা ও ন্যান্সিবাজার এলাকায় সড়কের ওপর পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে সেনাবাহিনী, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত মাটি সরিয়ে সড়কের এক পাশে যান চলাচল উপযোগী করেন। এছাড়া গুইমারার সিন্ধুকছড়িতে পাহাড়ধসের কারণে একটি বাড়ির আংশিক ক্ষতি হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, আনসার-ভিডিপি ও সড়ক বিভাগের লোকজন ধসে পড়া পাহাড়ের মাটি সরিয়ে যান চলাচলের উপযোগী করেছেন।’

এদিকে ভারি বর্ষণে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে দীঘিনালার মাইনী নদীর পানি। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এরই মধ্যে ডুবে গেছে দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নের সোবাহানপুর, চিটাগাংগ্গ্যে পাড়া ও মেরং বাজারের একাংশ। দীঘিনালা-লংগদু সড়কের হেডকোয়ার্টার এলাকায় পানি উঠে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।’

বান্দরবান: লামা উপজেলায় ভারি বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় মিরিঞ্জা পাহাড়সহ তিনটি পাহাড়ের আবাসিক হোটেল, অবকাশ যাপন কেন্দ্র গতকাল দুপুর থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ভারি বৃষ্টি না কমা পর্যন্ত পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন জানিয়েছেন।

এদিকে বান্দরবান-ওয়াইজংশন-রুমা সড়কে সকালে আবার যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার সড়কের ওপর পাহাড়ধসে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়েছিল। একই দিনে আলীকদমের কুরুকপাতা ইউনিয়নের মেনরাতপাড়া এলাকায় ভারি বৃষ্টিতে জুমঘরের ওপর গাছ ভেঙে পড়েছে। জুমঘরে থাকা পাঁচ বছরের এক ম্রো শিশু গাছের নিচে চাপা পড়ে মারা গেছে বলে ইউপি সদস্য কাইংপ্রে ম্রো জানিয়েছেন।

রাঙ্গামাটি: কয়েকদিন ধরে অনবরত বর্ষণের ফলে রাঙ্গামাটিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। গতকাল কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। ভারি বর্ষণ ছাড়াও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে প্লাবন পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি হচ্ছে। উজানের পানি ও বৃষ্টিতে কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ছে। শনিবারের চেয়ে গতকাল আশ্রয় কেন্দ্রে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে। ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে ফসলি জমিরও।

রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুর্গতদের আশ্রয়ে পুরো জেলায় ২৪৬টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত আশ্রয় কেন্দ্রে ৬৭২ জন আশ্রয় নিয়েছে। জেলায় ৫৩টি ঘরবাড়ির আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৬৩ হেক্টর কৃষি জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে টানা বৃষ্টির প্রভাবে জেলায় বড় পাহাড়ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টিপাতের কারণে গতকাল রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের মঘাছড়িসহ বিভিন্ন স্থানে পাহাড় থেকে মাটি ধসে পড়েছে। সড়ক ও জনপথ তাৎক্ষণিক ধসে পড়া মাটি অপসারণে কাজ করছে। এতে চট্টগ্রামসহ খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের সঙ্গে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে জুরাছড়ি ও কাউখালী উপজেলার দুটি অভ্যন্তরীণ সড়ক বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ওই সড়ক দুটোতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

অন্যদিকে, জেলার বাঘাইছড়ি পৌরসভা এলাকা, জুরাছড়ি উপজেলা ও সদর উপজেলার সাপছড়ি, বিলাইছড়ি, বরকল, নানিয়ারচর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি।

রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ বলেন, ‘দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। জেলায় মোট ২৪৬টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আমাদের ইমার্জেন্সি টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে আসার আহ্বান করা হয়েছে।’

মিরসরাই (চট্টগ্রাম): মিরসরাইয়ের মুহুরী প্রজেক্ট এলাকায় সিডিএসপি বাঁধ ভেঙে মৎস্য প্রকল্পে পানি ঢুকে গেছে। প্রায় ৬০০ একর মাছের খামার ডুবে গেছে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, ‘আমি সরজমিনে গিয়ে চাষীদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, সিডিএসপির বাঁধ ভেঙে প্রায় ৬০০ একর মৎস্য প্রকল্প ডুবে গেছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। চাষীদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে প্রকৃত ক্ষতি নিরূপণ করা হবে।’

এদিকে উপজেলায় ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার হিঙ্গুলী, করেরহাট, জোরারগঞ্জ, বারইয়ারহাট পৌরসভা, খৈয়াছরা, মিরসরাই পৌরসভা, দুর্গাপুর, ইছাখালী, কাটাছরা, মিঠানালা, ওসমানপুর, ওয়াহেদপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে রোপা আমন, সবজি খেত, মৎস্য প্রকল্প ও গ্রামীণ সড়কের। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পাঠাদান ব্যাহত হচ্ছে।

ফেনী: ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাডি ঢলে গতকাল সকাল থেকে হঠাৎ করে ফেনীর মুহুরী নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফুলগাজী ও পরশুরামে মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১১ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি বাড়তে থাকায় দুই উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

পাউবো জানায়, দুদিন ধরে ভারতের ত্রিপুরা অঞ্চলে ভারি বৃষ্টির কারণে মুহুরী নদীর পানি বাড়ছে। সংস্থাটির উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আবুল কাশেম আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ করেছেন।