বৈঠকে খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা, রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা এবং মানবিক সহায়তায় ডব্লিউএফপির দীর্ঘদিনের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘সীমিত সম্পদের মধ্যেও বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক (রোহিঙ্গা) জনগোষ্ঠীর জন্য ডব্লিউএফপির সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ।’ এ সহায়তা অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন বজায় রাখার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবেশবান্ধব কৃষি ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সরকার। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের টেকসই সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে ডব্লিউএফপির স্কুল মিলস কর্মসূচির অবদানের প্রশংসা করেন এবং জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা জোরদারে সক্ষমতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ এবং দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে ডব্লিউএফপির সহযোগিতা কামনা করেন।

পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিসহ সংস্থাটির কার্যপরিধির আওতাভুক্ত সরকারি উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নেও সহযোগিতা চান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সহযোগিতা আরো বাড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি।

ডব্লিউএফপির কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টির ওপর যে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মধ্যে, তা মোকাবেলায় ডব্লিউএফপি কাজ করছে।’

তিনি খুলনা বিভাগ ও হবিগঞ্জে চলমান কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ভূমিকম্প প্রস্তুতি বিষয়ে ডব্লিউএফপির উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।