সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বর্ষা মৌসুম শেষ হতে চললেও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় জেলার পুকুর, খাল, বিলসহ চারদিকে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় এ সংকট তীব্র হয়েছে। উপকূলের মানুষের সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে গতকাল সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আয়োজনে এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেয়।
জেলা জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরামের সভাপতি ও শিক্ষাবিদ আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ও ফেরামের সদস্য আবুল কালাম আজাদ, সিডোর নির্বাহী পরিচালক শ্যামল বিশ্বাস, চুপড়িয়া মহিলা সংস্থার সভানেত্রী মরিয়ম মান্নান, সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের পরিচালক আফজাল হোসেন, আব্দুস সামাদ, প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির পরিচালক আবুল কালাম, উত্তরণের মো. মনির উদ্দীন, যুব ফোরামের মাসুদ রানা, উত্তরণের প্রকল্প সমন্বয়কারী নাজমিন নাহার, স্বদেশের গোবিন্দ মুন্ডা, কালীগঞ্জ উপজেলা যুব ফোরামের সভাপতি হারুন অর রশিদ, সদস্য শাহানাজ পারভীন, শ্যামনগর উপজেলা যুব ফোরামের সভাপতি মো. মমিনুর রহমান, সদস্য ও স্বর্ণ কিশোরী সুমাইয়া পারভীন, লিডার্সের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. শওকত হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরামের সদস্য সচিব ও স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে সাতক্ষীরা উপকূল। উপকূলীয় নদীগুলোর লবণাক্ততা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূলীয় পানির উৎসগুলো লবণাক্ত হয়ে পড়ায় পানের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। ফলে উপকূলীয় জেলাগুলোয় সুপেয় পানির সংকট বেড়েই চলেছে।
পানির সংকট তুলে ধরে বক্তারা আরো বলেন, বেড়িবাঁধ দুর্বল হওয়ার কারণে লবণ পানি ঢুকে চাষযোগ্য জমি, সুপেয় পানির আধারগুলো নষ্ট হচ্ছে। চারদিকে শুধু লবণ পানি, কিন্তু সুপেয় পানি নেই। সুপেয় পানির অভাবে মানুষ পুকুরের দূষিত পানি পান করে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে নারীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভুগছেন। পানি সংগ্রহ করতে নারীকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়। এমনকি তারা বিভিন্ন ধরনের নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।









