গতকাল রাজধানীর বনানীতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের প্রতিভা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশে ১৮ কোটি মানুষ বলা হয়। ধরেন, তাদের ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশের চোখে আলো আছে; যাদের এ দেশ গঠন করার কথা, মানবিক মূল্যবোধ বিষয়ে বলার কথা,

তারা কেউ চোখে দেখছেন না। এ দেশের মানুষের অধিকার নিয়ে যাদের কথা বলার কথা ছিল, তারা কেউ কথা বলেন না। তারা আত্মকেন্দ্রিকতায় ভুগছেন।’

আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা যারা চোখে আলো নিয়ে এ সমাজে বিচরণ করছি, আমাদের অনেকের মানুষের মতো মুখোশ আছে। সেই মুখোশ নিয়ে আমরা যেভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছি, সেখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি না—২০১৪ সালের জুলাই-আগস্টের সময় পাখির মতো গুলি করে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে রাস্তায়, দিনে হত্যা করা হয়েছে। ৩০ হাজারের মতো মানুষ কেউ হাত হারিয়েছে, কেউ পা হারিয়েছে, কেউ মাথা হারিয়েছে। কারো খুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, প্লাস্টিক করে রাখা হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের একজন মেধাবী ছাত্র ছিল, তার এ পাসটা নেই।’

তিনি বলেন, ‘এখনো মানুষের মুখোশধারী অনেকের চোখ আছে, আলো আছে। তারা বলে, এগুলো কিছু হয় না। তারা এখনো ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের জন্য চেষ্টা করছে। আমরা বলব, আপনারা যে যেখানেই থাকুন, চোখ খুলুন। আমরা যদি অপরাধ করি, আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখান। নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এটা আপনার নৈতিক দায়িত্ব, সাংবিধানিক দায়িত্ব।’

আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা যে যেখানেই থাকি না কেন, সেখান থেকে যদি চোখ খুলি, আমরা যদি আমাদের দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে কাজ করি, তাহলে হয়তো বাংলাদেশ একদিন সুকান্তের ভাষায় এ শিশুর বাসযোগ্য ভূমি হিসেবে গড়ে উঠবে। আগামী প্রজন্মের জন্য হয়তো আমরা একটি বাসযোগ্য ভূমি রেখে যেতে পারব। আর যদি ব্যর্থ হই, তাহলে হেলাল হাফিজের ভাষায় আমরা উক্ত পুরুষের ভীরু কাপুরুষের উপমায় থাকব।’

তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মতো প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে, আমার বিবেকের জায়গা থেকে, বিবেকবোধ থেকে দায়িত্ব পালন করি। সে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেকের ভুল হবে। ভুল সংশোধন করে আমরা একটা একটা করে কাজ করি। এ দেশকে গড়ে তুলি।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই যুদ্ধে গিয়েছিল ১০ বছরের শিশু আনাস। তার মাকে চিঠি লিখে গেছে—দ্যাট ইজ পার্ট অব হিস্ট্রি নাও—মা, আমি মিছিলে যাচ্ছি। পঙ্গু ছেলে যদি মিছিলে যেতে পারে, অন্ধ ছেলে যদি মিছিলে যেতে পারে, তাহলে আমি কী করে বাসায় বসে থাকি। আমি যদি মিছিল থেকে না ফিরে আসি, আমাকে ক্ষমা করে দিও। একদিন আমার জন্য তোমার গর্ববোধ হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘১০ বছরের শিশু তার বিবেকের তাড়নায় মিছিলে গিয়েছিল বাংলাদেশের মানুষকে মুক্ত করতে, জন্মভূমিকে স্বাধীনতার স্বাদ দিতে, গণতন্ত্রের স্বাদ দিতে, আইনের শাসনের স্বাদ দিতে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশের পথ ধরে হাঁটতে চাই। আর চাই বলেই আমরা বিশ্বাস রাখি, এই বাংলাদেশে ফ্যাসিজম যাতে আবার পুনর্বাসিত না হয়, আমরাও যাতে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারি। সে রকম একটি রোডম্যাপ আসুন তৈরি করি। শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়।’

ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সামনে এগিয়ে এসেছে। আমি আশা করব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে আপনাদের যদি এখানে আরো কিছু করণীয় থাকে, বিশেষ করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আপনারা যদি যোগাযোগ করেন, তারাও আপনাদের এ শুভকাজে অংশীদার না হতে পারলেও সঙ্গে থাকতে পারবে। যেকোনো সহযোগিতা আপনাদের সেখানে থেকে পৌঁছে দিতে পারবে। আমি নিজে কথা বলব সমাজকল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে, যাতে আপনাদের এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে পৃষ্ঠপোষকতা করেন, আপনাদের সঙ্গে থাকেন।’