বাংলাদেশের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) জন্য বৈদেশিক অনুদান ধীরে ধীরে কমে আসছে। গত পাঁচ বছরে এ খাতে সহায়তার প্রবাহ স্থিতিশীল থাকলেও গবেষকদের আশঙ্কা, ২০২৩ সালের ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের অনুদান চলতি বছর ৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসতে পারে। এতে ঝুঁকিতে রয়েছেন সুবিধাভোগী ও উন্নয়নকর্মীরা।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর পর্যটন করপোরেশন ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য ওঠে আসে। সভার আয়োজন করে শিক্ষা খাতে কাজ করা বেসরকারি সংগঠনগুলোর জোট গণসাক্ষরতা অভিযান। আলোচনায় এনজিওগুলোর চলমান অর্থায়ন সংকট মোকাবেলায় সম্ভাব্য কৌশল, করণীয় ও বিকল্প তহবিলের উৎস নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। ফলে বিদেশী দাতারা স্বাভাবিকভাবেই চাইবেন আমরা নিজেদের অর্থে উন্নয়ন কর্মসূচি চালাই। ভবিষ্যতে অনুদান পেতে হলে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন এবং প্রকৃত প্রভাবই হবে মূল সূচক।
সভায় সভাপতিত্ব করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, কভিড মহামারি, জলবায়ু পরিবর্তন ও যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠী ও উন্নয়ন সহযোগীদের বৈদেশিক সহায়তা তহবিলের ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, যা বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর (এনজিও) উন্নয়ন উদ্যোগ ও মানবিক সহায়তা প্রকল্পগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
তিনি আরো বলেন, বিদেশী তহবিল কমে আসায় এনজিওগুলোকে এখনই বিকল্প উৎস খুঁজে বের করতে হবে। প্রবাসী বাংলাদেশীরা এ ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় উৎস হতে পারেন। তবে প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতার কারণে অনেক প্রবাসী স্থানীয় স্কুল, হাসপাতাল বা সামাজিক প্রকল্পে অনুদান পাঠাতে সমস্যায় পড়েন।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এনজিও খাতের এ সংকটকে ‘নতুন সুযোগ’ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংকট এনজিওগুলোকে কাজের ধরনে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে। দীর্ঘদিন আমরা শিক্ষাকে বৈষম্য হ্রাসের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছি। এখন সময় এসেছে মানসম্মত শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়ার ।
সভায় সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের উপপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান। প্রবন্ধে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনুদান হ্রাসের কারণে প্রায় ৫০ হাজার উন্নয়নকর্মীর চাকরি ঝুঁকিতে রয়েছে।
সভায় সারা দেশের মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা জানান, বিদেশী অনুদান কমে যাওয়ায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের নানা প্রকল্প স্থবির হয়ে পড়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়ছেন উন্নয়নকর্মীরাও। ইতোমধ্যে ২০২৫ সালে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২০ হাজার কর্মী চাকরি হারিয়েছেন।
সভায় আরো বক্তব্য দেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের (ব্র্যান্ড অ্যান্ড মার্কেটিং) কান্ট্রি হেড বিটপী দাশ চৌধূরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন প্রমুখ।










