উৎপাদন ও আমদানি মূল্য স্বাভাবিক থাকলেও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে মসুর ডাল, আদা, দেশী রসুন, দেশী পেঁয়াজের দাম। ক্ষেত্র বিশেষে এসব পণ্যের দাম ৯৫ শতাংশ পর্যন্তও বেড়েছে। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের করা এক প্রতিবেদনে দাম বৃদ্ধির এ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটিতে পণ্যের দাম বৃদ্ধির এসব চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশকিছু সুপারিশও করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকা, উপজেলা ও জেলায় সরকারিভাবে লকডাউনে থাকায় অত্যাবশকীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। টিসিবি থেকে গত এক মাসে সরকার ঘোষিত প্রতিটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের স্থানীয় বাজারদরের প্রবণতা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত এক মাসে সব অত্যাবশকীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। তবে মসুর ডাল, আদা, দেশী রসুন, দেশী পেঁয়াজসহ কয়েকটি পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।
সারা দেশে নভেল করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউন ও সাধারণের চলাচল ও গমনাগমনে নিয়ন্ত্রণের ফলে পরিবহন ও শ্রমিকের স্বল্পতা এবং বাজার ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় অত্যাবশকীয় পণ্যের সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে আংশিক মূল্যবৃদ্ধিকে স্বাভাবিক হিসেবে মনে করছে ট্যারিফ কমিশন।
প্রতিবেদনটি তৈরি করতে টিসিবি থেকে পাওয়া গত এক মাসের অত্যাবশকীয় পণ্যের স্থানীয় বাজারদরের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে দেখেছে ট্যারিফ কমিশন। তাতে দেখা গেছে, খোলা সয়াবিন তেলের দাম গত এক মাসের ব্যবধানে বেড়েছে শতকরা ৪ দশমিক ৪৪ ভাগ। অর্থাৎ গত ১৫ মার্চ দাম ছিল গড়ে ৮৮-৯২ টাকা, যা এক মাসের ব্যবধানে ১৫ এপ্রিল একই মানের তেলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩-৯৫ টাকায়। আবার বোতলজাত সয়াবিন তেলের পাঁচ লিটারের বোতলের দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ২১ শতাংশ। এক মাস আগে পাঁচ লিটারের প্রতি বোতলের দাম ছিল ৪৬০-৫০০ টাকা, মাসের ব্যবধানে তার দাম দাঁড়িয়েছে ৪৯০-৫০০ টাকা, এক লিটারের বোতলের দামে ব্যবধান হয়েছে ৫ শতাংশ। আগে ৯৫-১০৫ টাকা দাম থাকলেও এটি এ সময়ে বেড়ে ১০০-১১০ টাকা হয়েছে।
বেড়েছে সব ধরনের মসুর ডালের দামও। মসুরের আকারভেদে মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ২৮ শতাংশ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত। মসুর ডালের (বড় দানা) মার্চে দাম ছিল ৬০-৭০ টাকা, এক মাসের ব্যবধানে এখন দাম ৭৫-৮০ টাকা। মাঝারি দানা মসুর ডালের দাম ছিল ৭০-৮০ টাকা, তা ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৮০-৯০ টাকা। ছোট দানার মসুর ডালের দাম ছিল ৯০-১০৫ টাকা। মাসের ব্যবধানে তার দাম বেড়েছে ২৮ দশমিক ২১ শতাংশ। দেশী পেঁয়াজ প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ২৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। ১৫ মার্চ পেঁয়াজের দাম ছিল ৪০-৪৫ টাকা। এক মাসের ব্যবধানে তা বেড়ে হয়েছে ৫০-৬০ টাকা।
দাম বেড়েছে দেশী রসুন ও আদারও। এর মধ্যে রসুনের দাম বেড়েছে ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। ১৫ মার্চ দেশী রসুনের দাম ছিল ৬০-৮০ টাকায়। এক মাসের ব্যবধানে তা দাঁড়িয়েছে ১০০-১৩০ টাকায়। দেশী আদার দাম বেড়েছে ৯৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ। মার্চে প্রতি কেজি দেশী আদার দাম ছিল ১১০-১২০ টাকা, মাসের ব্যবধানে তার দাম এখন ২০০-২৫০ টাকায় চলে এসেছে। আমদানি করা আদার দামও বাড়তি। আমদানি করা আদার দাম মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ৮৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ। মার্চে আমদানি করা প্রতি কেজি আদার দাম ছিল ১৪০-১৪৫ টাকা, এপ্রিলে এসে সেই আদার দাম প্রতি কেজিতে হয়েছে ২৬০-২৮০ টাকা। খেজুরের দাম বেড়েছে ২২ দশমিক ২২ শতাংশ। মার্চে খেজুরের দাম ছিল প্রতি কেজিতে ২০০-২৫০ টাকা, এখন তার দাম ২৫০-৩০০ টাকা। মানভেদে ছোলার দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে আমদানি করা পেঁয়াজ ও রসুনের দাম বাড়েনি।
ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেশে কৃষিজ পণ্যর উৎপাদন এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শস্য আদা, রসুন, পেঁয়াজ, মসুর ডাল, হলুদ, মরিচ, সরিষা ও অন্যান্য শস্যের উৎপাদন মৌসুম সদ্য শেষ হয়েছে। এ বছর আবহাওয়া শস্য চাষের অনুকূলে থাকায় এসব পণ্যর স্থানীয় উৎপাদন গত বছরের তুলনায় বেশি হয়েছে। তবে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফসল দ্বারা চাহিদা পূরণ সম্ভব নয় বলে এসব পণ্যের আমদানি নির্ভরতাও রয়েছে।









