ঝিনাইদহে নিম্ন মানের ইটের খোয়া দিয়ে সড়ক সংস্কারের অভিযোগ উঠেছে পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। গতকাল সকালে জেলা শহরের উজির আলী স্কুলের পাশের সড়ক সংস্কার শুরু করে পৌর কর্তৃপক্ষ। এ সময় স্থানীয়দের বাধার মুখে সেখান থেকে সটকে পড়েন প্রকৌশলীসহ সংস্কারে নিয়োজিত কর্মীরা।

স্থানীয়রা জানান, পৌরসভার উজির আলী স্কুল থেকে কলাবাগান পর্যন্ত সড়কটির সংস্কারকাজ না করে একজন ঠিকাদার ফেলে রেখে গেছেন। সড়কটির কারণে চলাচলে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। কয়েকদিন আগে এলাকার বাসিন্দারা সড়কটি সংস্কারের জন্য পৌরসভায় স্মারকলিপি দেন। সে সময় পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সড়কে ভোগান্তি কমাতে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয়।

গতকাল সকালে ছুটির দিনে ওই সড়কের ৫০০ মিটার কাজ শুরু করে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পৌরসভার প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান কাজল ও একজন উপসহকারী প্রকৌশলী সেখানে দাঁড়িয়ে কাজ তদারকি করছিলেন। শুরু থেকে নিম্ন মানের ইটের খোয়া দিয়ে কাজ করাচ্ছিলেন তারা। স্থানীয়দের ভাষায় পোড়ামাটি বা রাবিশ দিয়ে কাজ করাচ্ছিলেন তারা। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা সেই কাজে বাধা দেয়। খবর পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে গেলে কৌশলে সেখান থেকে সটকে পড়ের প্রকৌশলী ও কর্মীরা।

কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা লিটু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সড়ক খারাপ ছিল। এখন আবার কাজ শুরু হচ্ছে। একেবারেই নিম্ন মানের ইটের খোয়া দিয়ে কাজ করছেন। এটাকে তো ইটই বলা চলে না। পোড়ামাটি দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

মুরাদ হোসেন নামের এক বাসিন্দা বলেন, যে ইট ব্যবহার করা হচ্ছে তার চেয়ে এঁটেল মাটি দিয়ে কাজ করালে ভালো হতো। পৌরসভার টাকা নেই ভালো কথা। নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করে টাকা নষ্ট করার কী দরকার। পৌরসভার কর্মকর্তারা টাকা আত্মসাৎ করার জন্য নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন বলেন, সড়কের কাজে এক নম্বর ইট দেয়ার কথা। কিন্তু সেখানে একটু সমস্যা হয়েছে বলে কাজ আপাতত বন্ধ রেখেছি। আগামীতে ভালো মানের ইটের খোয়া দিয়ে কাজ করা হবে।