ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন ফি আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে চার থেকে আট গুণ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, জেএসসি পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে জরিমানা ছাড়া ৬০ টাকা। তবে শিক্ষা বোর্ডের নিয়মের লঙ্ঘন করে বোয়ালমারী উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ফি হিসেবে চার থেকে আট গুণ বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ক্ষেত্র বিশেষে সর্বনিম্ন ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে। উপজেলার ২৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়েই এ অনিয়মের চিত্র দেখা গেছে।

উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের সাতৈর উচ্চ বিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রেশন ফি হিসেবে জনপ্রতি নেয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা, যা বোর্ডের নির্ধারিত ফির আট গুণ বেশি।

এ ব্যাপারে সাতৈর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী চৌধুরী বলেন, আমি ছিলাম না। শিক্ষকরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ৪০০ টাকা করে আদায় করেছে। যাদের কাছে বেশি নেয়া হয়েছে তাদের বাকি টাকা ফেরত দেয়া হবে।

বোয়ালমারী সদরে অবস্থিত বোয়ালমারী জর্জ একাডেমির অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৩০০। এখানে রেজিস্ট্রেশন ফি হিসেবে জনপ্রতি নেয়া হচ্ছে ২০০ টাকা, যা বোর্ডের নির্ধারিত ফির চেয়ে চার গুণ বেশি।

উপজেলার চতুল ইউনিয়নে অবস্থিত চতুল উচ্চ বিদ্যালয়ে জেএসসি পরীক্ষার্থীদের থেকে ৩০০ টাকা করে রেজিস্ট্রেশন ফি আদায় করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রেজিস্ট্রেশন, বিভিন্ন পরীক্ষা, ফরম পূরণ, ভর্তি ফি ও প্রবেশপথ বিতরণের সময় অতিরিক্ত যে অর্থ আদায় করা হয়, ভুয়া ভাউচার দেখিয়ে তা প্রধান শিক্ষকরা ভোগ করেন।

বোয়ালমারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম বলেন, ‘রসিদ ছাড়া টাকা নেয়ার বিষয়টি জানতে পেরে আমি কয়েকটি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ফোন করে নিষেধ করেছি। কিন্তু আমার নিষেধ কেউ মানছে না। এ ব্যাপারে আমার কিছু করার নেই।’

এ ব্যাপারে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ বলেন, টাকা বেশি নেয়ার বিষয়টি আমাকে চার-পাঁচজন বলেছে। রসিদ ছাড়া যেন কেউ লেনদেন না করে, সে ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আমি আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।