পরিবার-পরিকল্পনা অধিদপ্তর, ডাক বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন জায়গায় চাকরির সুযোগ রয়েছে। এজন্য প্রত্যেক পদের অনুকূলে মাত্র ৪০ হাজার করে টাকা দিতে হবে। যোগদানপত্র হাতে পেয়ে টাকা দিলেই চলবে। ভুয়া স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. দুলালের এমন কথায় রাজি হয়েছিলেন বাগেরহাটের কয়েকজন বেকার যুবক। খোঁজখবর নিয়ে বেকার যুবকরা দুলালের প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে বাগেরহাট মডেল থানায় জানান। গতকাল বিকালে কৌশলে পুলিশ তাকে আটক করে।

পুলিশের পরিকল্পনা অনুযায়ী যুবকরা দুলালকে টাকা নেয়ার জন্য গতকাল বিকালে বাগেরহাট মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট স্কুলের (ম্যাটস) গেটে আসতে বলেন। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী ম্যাটসের সামনে থেকে বাগেরহাট মডেল থানা পুলিশ দুলালকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। পরে দুলালের ভাড়াবাসা থেকে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সাতটি ভুয়া নিয়োগপত্র ও প্রতারণার কাজে ব্যবহূত বিভিন্ন ডকুমেন্ট উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেফতার মো. দুলাল কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সবুজপাড়া এলাকার মো. জাহিদুল ইসলামের ছেলে। তিনি বাগেরহাট শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা পরিচয়ে এ ধরনের প্রতারণা করে আসছিলেন।

থানায় অভিযোগ দায়েরকারী বাগেরহাট সদর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের মো. মেহেদী হাসান বলেন, মুনিগঞ্জ ব্রিজের নিচের একটি দোকানে চা খাওয়ার সময় মো. দুলালের সঙ্গে আমার পরিচয়। তখন তিনি আমাদের মাইমুন হাসান হিসেবে পরিচয় দেন। পরে বিভিন্ন সময় আমাকে চাকরির অফার দেন। আমার সঙ্গে আরো কয়েকজন চাকরির জন্য রাজি হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অফিস সহকারী কামকম্পিউটার অপারেটর হিসেবে নিয়োগের জন্য ৪০ হাজার টাকা দিতে হবে। তার কথায় আমরা সম্মতি দিলে তিনি যোগদানপত্র দেয়ার কথা বলেন। পরবর্তী সময়ে আমরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারি মাইমুন নামের কোনো ব্যক্তি বাগেরহাট স্বাস্থ্য বিভাগে চাকরি করেন না। আমাদের কাছে সন্দেহ হলে আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানাই।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মাহমুদ হাসান বলেন, মেহেদী হাসান নামের এক যুবকের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা মো. দুলালকে গ্রেফতার করেছি। তার ভাড়াবাসা তল্লাশি করে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সাতটি যোগদানপত্রসহ প্রতারণার কাজে ব্যবহূত বেশকিছু ডকুমেন্টস উদ্ধার করেছি।