সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরায় প্রতিদিনই করোনা শনাক্তের হার বাড়ছে, একই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। লকডাউনের সপ্তম দিনে জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে দুজন ও করোনা উপসর্গ নিয়ে আরো পাঁচজন মারা গেছেন। তারা সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে মারা গেছেন। এ নিয়ে করোনা উপসর্গ নিয়ে জেলায় মারা গেছেন অন্তত ২৪৪ জন। আর ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫০ জন।

এদিকে, করোনার ঊর্ধ্বমুখী হার ঠেকাতে গতকাল সকাল থেকে পুলিশ সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে মাঠে কাজ করছেন জনপ্রতিনিধিরা। প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মধ্যেও নানা অজুহাতে লোকজন বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন। তবে তাদের বাড়িতে রাখতে প্রশাসন আরো কঠোর অবস্থানে রয়েছে। চলছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। তার পরও থেমে নেই করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি। হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের গতকালের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪০ জন নতুন রোগীসহ ১৩৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এজন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বেডের সংখ্যা ৮৭ থেকে বাড়াতে বাড়াতে ১৩৫টি করলেও সংকুলান হচ্ছে না। ফলে আরো ১৫টি বেড বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কুদরত-ই-খোদা।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. জয়ন্ত সরকার জানান, বৃহস্পতিবার ২১১ জনের নমুনা পরীক্ষা শেষে ১১১ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে, যা সংক্রমণের হার ৫২ দশমিক ৬০ শতাংশ। তিনি আরো জানান, জেলায় গতকাল পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২ হাজার ২৫৬ জন।

অপরদিকে, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৩৬ জন রোগীর মধ্যে ৯৯ জন করোনা উপসর্গ ও ৩৭ জন করোনা পজিটিভ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ২৮ জন রোগীর মধ্যে ২২ জন করোনা পজিটিভ ও বাকি ছয়জন উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন। সব মিলিয়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে জেলায় মোট ৬৪৭ জন কভিড রোগী ভর্তি রয়েছেন।