অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এ কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেছেন, সফরের তৃতীয় দিনে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে।
তিনি জানান, জাতিসংঘ মহাসচিবের অভিনন্দনের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ দিন পর একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারার অনুভূতির কথা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ বা 'গ্র্যাজুয়েশন' প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়। বিশ্ব অর্থনীতির বিদ্যমান নানা চ্যালেঞ্জের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই উত্তরণের সময়সীমা যেন কিছুটা বাড়ানো হয়, সে বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবকে অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী।
গতকাল নিউইয়র্ক সময় সন্ধ্যা ৭টায় জাতিসংঘের সদর দপ্তরের মিডিয়া চত্বরে প্রেস ব্রিফিংয়ে মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ এবং তৃতীয় দিনের কার্যক্রম নিয়ে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ভাষণকে ‘ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী’ উল্লেখ করেন মাহ্দী আমিন বলেন, এই ভাষণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে এক নতুন ইতিহাসের সৃষ্টি হয়েছে। এক আবেগঘন মুহূর্তে তিনি বিশ্বমঞ্চে দেশকে উপস্থাপন করেছেন, যেখানে তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পূর্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এই ঐতিহ্য বজায় রেখেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ মন্ত্রিসভার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে থাকা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ প্রদানকে এক গৌরবময় ঘটনা বলে তিনি বর্ণনা করেন।
ভাষণের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কেবল বাংলাদেশের সীমানায় নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা, ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী মানুষের অধিকার রক্ষা এবং জাতিসংঘ কীভাবে সারাবিশ্বে শান্তি, সমৃদ্ধি ও ঐক্য ফিরিয়ে আনতে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে, সেই সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বিশ্বনেতাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন।
গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, আগামীর একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ার মূল পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ফুটে উঠেছে। অডিয়েন্স অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে এই বক্তব্য গ্রহণ করেছেন। এই ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শুধু বাংলাদেশেরই প্রতিনিধিত্ব করেননি, বরং সারাবিশ্বের গণতন্ত্রকামী, মানবাধিকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে বিশ্বাসী প্রতিটি মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন।
সফরসূচির তৃতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী মোট সাতটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানমালাকে মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে— দ্বিপক্ষীয়, বহুপক্ষীয় এবং উচ্চপর্যায়।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং সমতা, ন্যায্যতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ককে বহুমাত্রিক পর্যায়ে রূপ দেয়ার পাশাপাশি 'পিপল টু পিপল টাইজ' বা জনগণের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এছাড়া সফরসূচিতে দুটি উচ্চপর্যায়ের কনফারেন্স ছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ মুখপাত্র। তিনি বলেন, যেখানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা অংশ নেন। এর একটি ছিল সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি তথা পরিবেশবিষয়ক এবং অন্যটি ছিল মিডওয়াইফারি ও স্বাস্থ্যবিষয়ক। দ্বিতীয় সম্মেলনটি বাংলাদেশ সরকার আরো কয়েকটি দেশের সঙ্গে যৌথ সহযোগিতায় আয়োজন করেছে।
জাতিসংঘে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবিষয়ক দুটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান ও পরিকল্পনা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। এসব সম্মেলনে পরিবেশ রক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাত নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থাপিত প্রস্তাবনাগুলো বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের কাছে সমাদৃত হয়েছে বলে জানান মাহ্দী আমিন।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি একেএম ওয়াহিদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনিসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্য ও জাতিসংঘ মিশনের কর্মকর্তারা।










