চুয়াডাঙ্গার সোনালী ব্যাংক উথলী শাখায় ডাকাতির ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল ভোরে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।আটককৃতরা হলেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আকুন্দবাড়ীয়া গ্রামের রহমানের ছেলে জনি (২৫), দেলবারের ছেলে কালু ও হাসমত আলীর ছেলে হূদয় (২৮)।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, সোনালী ব্যাংক উথলী শাখায় ডাকাতির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই শাখার গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের উথলী শাখায় কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। এছাড়া ব্যাংকে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা দুজন নিরাপত্তা প্রহরীর হাতে একটা লাঠি পর্যন্ত ছিল না। ব্যাংকে লেনদেন চলাকালে অধিকাংশ সময় নিরাপত্তা প্রহরীরা চায়ের দোকানে আড্ডা দেন। আগে থেকেই ব্যাংকে নিরাপত্তার চরম ঘাটতি রয়েছে।

সোনালী ব্যাংকে ডাকাতির ঘটনার পর উথলী বাজার এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। উথলী বাজারপাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা আব্দুল মান্নান পিল্টু বলেন, যেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানে দিনে ডাকাতি সংঘটিত হতে পারে। সেখানে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?

এদিকে ডাকাতি ঘটনার পর খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম) একেএম নাহিদুল ইসলাম গত রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঘটনাস্থল সোনালী ব্যাংক উথলী শাখা পরিদর্শনে এসে ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ব্যাংক চালানোর জন্য এ ভবন মোটেও উপযুক্ত নয়। এ ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। আমারা ধারণা করছি, এ জেলার মধ্যেই অপরাধীরা অবস্থান করছে। অল্প সময়ের মধ্যেই অপরাধীদের আটক করা সম্ভব হবে।

তিনি আরো বলেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি রয়েছে। ব্যাংকে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরাও নেই। বর্তমান যুগে এটা ভাবা যায় না।

গতকাল সকাল থেকে ডাকাতি ঘটনার ক্লু উদ্ধারের জন্য সাদা পোশাকে র্যাব, সিআইডি, ডিজিএফআই, পুলিশ ও ডিবি পুলিশের কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে দেখা গেছে।