বয়সের ভারে ন্যূব্জ শান্ত রাণী মন্ডল। বার্ধক্যজনিত নানা রোগও বাসা বেঁধে শরীরে। চিকিৎসা সেবা নেয়া তো দূরের কথা, তিন বেলা খাবার জোটানোও তার জন্য কষ্টকর। জীবনের শেষ সময়ে একটু স্বচ্ছলতার আশায় বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য ধরনা দিয়েছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে। আশ্বাস মিললেও এই ৮৪ বছর বয়সেও মেলেনি এই বিধবার বয়স্ক ভাতার কার্ড।
শান্ত রাণী মন্ডলের বাড়ি টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের আগদিঘুলিয়া গ্রামে। তার জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্ম তারিখ উল্লেখ আছে ১৯৩৭ সালের ২১ মার্চ। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বয়স্ক ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে নারীর বয়স সর্বনিম্ন ৬২, আর পুরুষের বয়স সর্বনিম্ন ৬৫ বছর।
সরেজমিন আগদিঘুলিয়া গ্রামে গিয়ে এলাকাবাসী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শান্ত রাণী মন্ডলের স্বামী অনন্ত চন্দ্র মন্ডল মারা গেছেন প্রায় ৩ বছর আগে। সহায়-সম্বল বলতে স্বামীর রেখে যাওয়া একখণ্ড জমিতে জীর্ণ বসতঘর ছাড়া তার তেমন কিছু নেই। তার আবার অর্ধেকের বেশিই গেছে ধলেশ্বরীর গর্ভে। দুই ছেলে ও চার মেয়ের মা শান্ত রাণী মন্ডল। ছেলে মেয়েরা যার যার মতো সংসার নিয়ে পৃথক হয়ে গেছে। এখন তিনি ছোট ছেলে গণেশ চন্দ্র মন্ডলের বাড়িতে থাকেন।
শান্ত রাণী বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর ছোট ছেলের কাছেই আছি। আরেক দিকে গাঙ্গে বাড়ি ভাইঙ্গা যাইতেছে। আমার অন্য ছেলেমেয়েরা কেউ আমারে দেখে না। ছোট ছেলে তার বউ, ছেলে মেয়ে নিয়ে কোনোরকম কষ্টে দিন পার করে। তার ওপর আমারে পালতে ওর অনেক কষ্ট হয়। স্বামী মারা যাওয়ার পর খুব কষ্টে আছি। অসুস্থ হলে ঠিকমতো ওষুধ কিনে খাইতে পারি না। আর কত দিন বাঁচুম তা কইবার পারি না। একটু খেয়ে পরে চলার জন্য অনেকবার চেয়ারম্যান-মেম্বরদের কাছে বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য গেছি। সবাই খালি কথা দিছে, দিমু কয় কিন্তু এখন অব্দি কেউ দেয় নাই।
শান্ত রাণীর ছোট ছেলের স্ত্রী মায়া রানী মন্ডল (৪০) বলেন, করোনায় উপার্জন প্রায় বন্ধ। ধারদেনা করে খুব কষ্টে চলতেছি। তার ওপর আবার নদীর ভাঙন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে অসুস্থ শাশুড়িকে ওষুধ খাওয়ানো লাগে। বয়স হয়ে যাওয়ায় শাশুড়ি প্রায় সব সময়ই অসুস্থ থাকে। বয়স্ক ভাতার কার্ডটা হলে খুব উপকার হতো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোকনা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান খান কোকা বলেন, কয়েক মাস আগে শান্ত রাণীসহ কয়েকজন বয়স্ক নারী এসেছিলেন। সীমিত কার্ড থাকায় সবাইকে দেয়া সম্ভব হয়নি। এর পরে তাকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ ফয়েজুল ইসলামকে এ বিষয়ে জানালে শান্ত রাণী নাগরপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসে আবেদন করলে ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।









