কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে মিরপুর ১০ নম্বর ও কাজীপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ছাত্রদলের নেতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। রোববার (২৮ জুলাই) রাজধানীর ডিবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন ডিবি প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
ডিবি বলছে, পরিকল্পিতভাবে মিরপুরের মেট্রোরেল
স্টেশনে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এই হামলায় এক থেকে দেড় হাজার
মানুষ অংশ নেয়। হামলার সমন্বয় করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আবু হান্নান
তালুকদার। এছাড়া দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনায় হামলার নেতৃত্ব দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
শহীদুল্লাহ হল শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইমাম আল নাসের (মিশুক)। একই ঘটনায় জড়িত
থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হল শাখা ছাত্রদলের
সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক বজলুল রহমান (বিজয়) ও ছাত্রদলের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি
মো. ফেরদৌস (রুবেল)।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান বলেন, কোটা সংস্কার
আন্দোলনে জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাসীরা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে রাজধানীর
বিভিন্ন এলাকায় রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলা ও ভাংচুর করে। পুলিশ সদস্যদের ওপর যারা হামলা
চালিয়েছে ও হত্যা করেছে, তারা যেখানেই থাকুক, একে একে সবাইকে গ্রেফতার করা হবে। এরই
মধ্যে যাত্রাবাড়িতে পুলিশ হত্যার ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ডিবি প্রধান আরো বলেন, গত ১৯ জুলাই কোটা
আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাসীরা মিরপুরের কাজীপাড়া ও মিরপুর ১০
নম্বর স্টেশনে অগ্নিসংযোগ করেছে। সেই ঘটনায় জড়িত থাকার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছি।
ডিবি প্রধান বলেন, ছাত্রদল নেতা হান্নান
তার সহযোগীদের নিয়ে বিএনপি নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও সাইফুল ইসলাম নিরবের নির্দেশনায়
মেট্রো স্টেশনে আগুন দেন।
এ ঘটনায় জড়িত আরো দুজন নেতার নাম পাওয়া গেছে
জানিয়ে হারুন বলেন, এর মধ্যে বিএনপি নেতা শ্রাবন আগেই গ্রেফতার হয়েছেন।
ডিবির এ কর্মকর্তা আরো বলেন, জড়িতরা বাংলাদেশের উন্নয়নের পক্ষের লোক না। তারা দেশকে অকার্যকর করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। অনেকে মনে করছেন পালিয়ে বেঁচে যাবেন। সেটা হবে না। মামলা হয়েছে, ডিবি তদন্ত করছে। আমরা জড়িত কাউকে ছাড় দেব না।










