সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকে ঘিরে সংঘাত-সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ১৪৭ জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন হাসপাতাল, বিভিন্ন জেলা থেকে নিহতের এ সংখ্যা পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে পুলিশ, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছে।’ গতকাল সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব কথা জানান।
শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ১৬ জুলাই সহিংস রূপ পাওয়ার পর এই প্রথম সরকারের তরফ থেকে প্রাণহানির কোনো সংখ্যা বলা হলো। যদিও সংবাদমাধ্যমে আসা প্রতিবেদনে দুই শতাধিক মৃত্যুর কথা বলা হচ্ছে। এ-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারিভাবে রোববার পর্যন্ত ১৪৭ জনের মারা যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছাত্র, পুলিশ সদস্যসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছে। এখনো অনুসন্ধান চালছে। এরপর যদি মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে সংখ্যাটি বাড়তে পারে। পুলিশ অতি উৎসাহী হয়ে কখনেই গুলি করেনি। অনেক ধৈর্য ধরে পরে পুলিশ গুলি করতে বাধ্য হয়েছে। ভিডিও দেখে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে জড়িতদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জানানো হবে।’
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পাঁচজন সমন্বয়ককে ডিবি পুলিশের হেফাজতে নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেখুন, তারা নিজেরাই বলছিলেন যে তারা ঝুঁকিতে আছেন। সেজন্য আমরা তাদের নিরাপত্তার জন্য নিয়ে এসেছি। তাদের জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে, কোন কোন রাজনৈতিক দল কিংবা কারা তাদের প্ররোচনা দিয়েছে। পরবর্তী সময়ে যে আন্দোলন সহিংস রূপ নিল সেগুলো আমরা তাদের জিজ্ঞাসা করছি। এগুলোর উত্তরও তারা দিচ্ছেন। আমরা চিন্তা করছি তাদের ঝুঁকিটা যদি মুক্ত হয়ে যায়, তাহলে আমরা তাদের ছেড়ে দিতে পারবো কিনা সেটি হিসাব-নিকাশ করছি। পুলিশ যদি মনে করে তারা ঝুঁকিমুক্ত তাহলে তখনই তাদের ছেড়ে দেয়া হবে। আমরা তাদের গ্রেফতার করিনি।’
এর আগে ২০১৮ সালে কোটা বাতিল করে জারি করা পরিপত্র হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করলে ছাত্ররা আন্দোলন শুরু করে। ধীরে ধীরে তাদের আন্দোলনের মাত্রা ও ব্যাপ্তি বাড়তে থাকে। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সঙ্গে কোটা আন্দোলনকারীদের সংঘাতের পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়।










