বান্দরবানের হাংসামা ও ক্রাইক্ষ্যংপাড়ার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত নোয়াপতং খালের পুরনো বেইলি ব্রিজ না সরিয়ে নতুন গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। এখনো নির্মাণের কার্যাদেশ পায়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু নির্মাণকাজের অজুহাত দিয়ে অনুমতি ছাড়াই কেটে ফেলা হয়েছে দুটি শতবর্ষী গাছ। এমন অভিযোগ সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) দুই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।
কেটে ফেলা গাছ দুটির একটি বটবৃক্ষ অন্যটি ধারমারা নামে পরিচিত। গাছ দুটির কাঠ একটি অবৈধ ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। এদিকে পুরনো বেইলি ব্রিজ না সরিয়ে নতুন ব্রিজ নির্মাণে জেলার হাংসামা পাড়ার প্রায় ২৪ কাঠা জমি কাটা পড়বে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। এতে তাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। জেলা প্রশাসনের অনুমতি ব্যতীত গাছ কাটা হলে তা আইন লঙ্ঘন বলে জানিয়েছে পাল্পউড প্লান্টেশন বিভাগ বান্দরবান কার্যালয়।
জানা গেছে, সওজের সড়ক সার্কেল রাঙ্গামাটি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে নতুন ব্রিজ নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। নির্মাণকাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৯ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। সম্প্রতি সওজ বান্দরবান কার্যালয় জানায়, দরপত্রের মাধ্যমে ব্রিজ নির্মাণকাজ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউটিমং কর্তৃপক্ষকে এখনো কার্যাদেশ দেয়া হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাংসামা ও ক্রাইক্ষ্যংপাড়ার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত নোয়াপতং খালে নতুন গার্ডার ব্রিজ নির্মাণে হাংসামা পাড়ার প্রায় ২৪ কাঠা জমি কাটা পড়বে। এতে দুই পাড়ার লোকজনের বাসস্থানের সংকট দেখা দেবে। প্রায় ২০০ বছরের পুরনো পাড়ার জায়গাকে নব্বইয়ের শতকে করা সড়কের অংশ বলছে সওজ। তবে পাড়ার জায়গাকে সওজ কখনো অধিগ্রহণ করেনি।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে পাড়াবাসী সওজ কার্যালয়ে গেলে প্রকৌশলীরা বলেন, এটি সরকারি কাজ, অভিযোগ করলেও কিছু হবে না। এর কয়েকদিন পর জানা যায়, চৌধুরী প্রকাশ বড়ুয়া ও মো. খোরশেদ আলম (বনফুল খোরশেদ ) ব্রিজের ঠিকাদার পরিচয় দিয়ে শ্রমিকের মাধ্যমে গাছ দুটি কেটে ফেলেন।
ঠিকাদার চৌধুরী প্রকাশ বড়ুয়া গাছ কাটার বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলতে বলেন। ব্রিজের সংযোগ সড়কের জন্য পাড়ার জমি কাটা পড়বে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেখানে পাড়ার কোনো জায়গা নেই।
শতবর্ষী গাছ কাটার আগে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হয়েছিল কিনা জানতে চাইলে ‘বিষয়টি নলেজে নেই’
বলে জানান সওজ বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী। বিষয়টি নিয়ে উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলতে বলেন তিনি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এখনো কার্যাদেশ দেয়া হয়নি বলেও বণিক বার্তাকে তিনি জানান।
জেলা প্রশাসনের সমন্বয় ও বন বিভাগের অনুমতি ব্যতীত যেকোনো প্রয়োজনে বৃক্ষনিধন আইন লঙ্ঘন বলে জানিয়েছেন তারাছা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. বশির আহমদ খান। সরেজমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা মিলেছে বলেও জানান তিনি।









