ঝালকাঠিতে আরাফ ও আয়ান নামের ১৬ মাস বয়সী দুই যমজ পুত্রসন্তানকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ফেলে রেখে প্রতিবাদ জানালেন এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রী। স্বামী ভরণপোষণ ও চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন না করায় রোববার বিকালে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে রেখে চলে যান তাদের মা সুমাইয়া আক্তার।
থানা পুলিশ ও সুমাইয়া আক্তার সূত্রে জানা যায়, শিশু দুটির বাবা ইমরান হোসেন কাঁঠালিয়া থানায় পুলিশ কনস্টেবল পদে কর্মরত। বর্তমানে এক মাসের প্রশিক্ষণের জন্য তিনি জামালপুরে অবস্থান করছেন। দাম্পত্য কলহের জেরে গত মার্চে স্ত্রীকে তালাক নোটিস পাঠান ইমরান। সুমাইয়ার দাবি, তালাক নোটিস পাঠানোর আরো আগ থেকে তার ও সন্তানদের ভরণপোষণ দিচ্ছেন না ইমরান।
সন্ধ্যায় ঝালকাঠি সদর থানায় গিয়ে দেখা যায়, নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কের এক নারী কনস্টেবল শিশু দুটিকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। শিশু দুটির শরীরের তাপমাত্রা ছিল অনেক বেশি। সুমাইয়া আক্তার মুঠোফোনে জানান, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শিশু দুটি ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিল। রোববার সকালে চিকিৎসকরা শিশু দুটির বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে বলেন। এতে প্রায় ৬ হাজার টাকার প্রয়োজন। বিষয়টি স্বামী ইমরানকে জানানো হলেও তিনি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তাই বাধ্য হয়ে শিশু দুটিকে নিয়ে পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিনের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য যাই। কিন্তু প্রধান ফটকের সামনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্য ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে সন্তানদের পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে রেখে চলে এসেছি।









